সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যেই পাঁচটি মামলার শুনানি সারলেও ১৯টি ট্রাইবুনালের মধ্যে মাত্র ছ'টির পরিকাঠামো অর্থাৎ বিচারপতিদের বসার জায়গা তৈরি হয়েছে।
.jpeg.webp)
সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 6 April 2026 20:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দফার নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য ভোটার তালিকা আজ রাত বারোটাতেই ‘ফ্রিজ’ বা স্থির হয়ে যাচ্ছে। ফলে এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তবে প্রথম দফার নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আর কোনও সুযোগ থাকবে না। জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)।
রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, যার মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসাররা প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করে ফেলেছে। এ নিয়ে সিইও জানিয়েছেন, বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে যাঁদের নিষ্পত্তি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটারের নাম শেষ পর্যন্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। যদিও তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারেন। তবে সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাইবুনাল কবে থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যেই পাঁচটি মামলার শুনানি সারলেও ১৯টি ট্রাইবুনালের মধ্যে মাত্র ছ'টির পরিকাঠামো অর্থাৎ বিচারপতিদের বসার জায়গা তৈরি হয়েছে।
কমিশনের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইবুনাল কমিটিকে এসওপি (SOP) বা গাইডলাইন তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই কাজ শেষ হতে হতে বাকি ১৩টি ট্রাইবুনালের পরিকাঠামোও প্রস্তুত হয়ে যাবে। কিন্তু আমজনতার জন্য শুনানির দরজা ঠিক কবে খুলছে, তার কোনও সদুত্তর মেলেনি কমিশনের তরফে।
বস্তুত, এদিন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের (SIR Tribunal) ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
এই উদ্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) প্রধান বিচারপতিকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিতে তিনজন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। আদালতের মতে, এই কমিটিই ট্রাইব্যুনালগুলির জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ট্রাইব্যুনালগুলি নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি একটাই হবে, যা নির্ধারণ করবে এই কমিটি। আদালত আশা করছে, সম্ভব হলে আগামীকালের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে, যাতে আপিলগুলির নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত হয়।
এছাড়াও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের কমিটি যে নির্দেশিকা তৈরি করবে, তা ১৯টি ট্রাইব্যুনালের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। অফলাইনে আপিল জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
অন্যদিকে, রাজ্যে নির্বিঘ্নে ভোট করানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে তিনি নিজে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখবেন। বিশেষত যে সব এলাকায় গত নির্বাচনে ভোট পরবর্তী হিংসার বা ‘পোস্ট পোল ভায়োলেন্স’-এর নজির ছিল, সেখানেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনেই মনোজ জানান, সেই কারণেই তিনি সেখানে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছিলেন। এবারও অশান্তি রুখতে বদ্ধপরিকর কমিশন।