সদ্য প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকাতেও তাঁদের নাম রয়েছে। তা সত্ত্বেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিধায়কের।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 December 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে (West Bengal) ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে খণ্ডঘোষে (Khandokosh)। ভোটার তালিকা সংশোধনের নোটিস পেয়েছেন খণ্ডঘোষ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) নবীনচন্দ্র বাগের মা, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধীর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
নবীনচন্দ্র বাগের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর মা নন্দরানি বাগ ও ভাই বিপিন বাগের নাম স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত রয়েছে। খণ্ডঘোষ বিধানসভার ২৯ নম্বর বুথে ৪০৫ ও ৪০৬ নম্বর সিরিয়ালে তাঁদের নাম ছিল বলে তাঁর বক্তব্য। শুধু তাই নয়, সদ্য প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকাতেও (Draft Voter List) তাঁদের নাম রয়েছে। তা সত্ত্বেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানির জন্য নোটিস (Hearing Notice) পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিধায়কের।
এই প্রসঙ্গে নবীনচন্দ্র বাগ বলেন, “আমি তৃণমূলের বিধায়ক (TMC MLA) বলেই বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আমার পরিবারকে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলছে। নোটিস পাওয়ার পর আমার মা ভীষণ আতঙ্কে রয়েছেন।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “উনি মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। নামের বানান সংক্রান্ত সমস্যা থেকেই এই ধরনের নোটিস আসতে পারে। আমার নিজের ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করেই তৃণমূল বারবার ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি যেভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা বুঝেই এখন বাঙালি আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। এতে কোনও লাভ হবে না।”
কী নিয়ে বিতর্ক
রাজ্যে ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করেন। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। যাঁদের ফর্ম জমা পড়লেও ম্যাপিং সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও শুনানিতে তলব করা মানেই রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা। বিজেপির দাবি, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খণ্ডঘোষে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।