দ্য ওয়াল ব্যুরো : জিএসটি বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার যে আয় করে, তার একটি অংশ নিয়মমতো রাজ্যগুলির প্রাপ্য। কিন্তু কোভিড অতিমহামারীর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের সর্থসচিব অজয়ভূষণ পাণ্ডে সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্যগুলিকে জিএসটি-র প্রাপ্য টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। মঙ্গলবার অর্থসচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অতিমহামারীর সময় কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে কী পরিমাণে। তিনি বলেন, যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে তা থেকে রাজ্যগুলিকে ভাগ দেওয়া সম্ভব নয়।
অজয়ভূষণ পাণ্ডেকে প্রশ্ন করা হয়, জিএসটি বিধি ভেঙে কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করতে পারে? তিনি বলেন, "জিএসটি আইনেই আছে, রাজস্ব আদায় কম হলে তা ভাগাভাগির ফর্মুলাও বদলে যেতে পারে।" সোমবার অর্থমন্ত্রক থেকে জানানো হয়, ২০১৯-২০ সালের আর্থিক বছরে যে রাজস্ব আদায় হয়েছিল, তা থেকে রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।
দেশে লকডাউনের পর এই প্রথমবার জিএসটি কাউন্সিলের মিটিং বসল। সেখানে কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তেওয়ারি, অম্বিকা সোনি, গৌরব গগৈ এবং এনসিপি-র সাংসদ প্রফুল্ল পটেল দাবি করেন, ভারতীয় অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে ইতিমধ্যে নানা উদ্বেগজনক কথা শোনা গিয়েছে। কয়েক মাস আগে আইএমএফ বলেছিল, ২০২০ সালে ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদন কমবে ৪.৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকও সেই সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, কোভিড ১৯ অতিমহামারীর ফলে বাজারে চাহিদা ও যোগানের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছে আনলক টু। লকডাউনের সময় অর্থনীতির কয়েকটি ক্ষেত্র শোচনীয় অবস্থার মধ্যে পড়েছিল। আনলক পর্ব শুরু হওয়ার পরে তারা কিছুদূর উন্নতি করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি অতিমহামারীর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে এখনও দীর্ঘ সময় লাগবে।
অর্থমন্ত্রক থেকে এদিন বলা হয়েছে, করোনার কোনও প্রতিষেধক নেই। এর ফলেই বাজারে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা। পুরোপুরি আনলক হওয়ার পরে অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরবে কিনা, তা নির্ভর করছে আমরা এখন কী পদক্ষেপ নেব তাঁর ওপরে।
অর্থমন্ত্রকের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। খুব কৌশলের সঙ্গে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা হচ্ছে। গত মার্চেই সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বুঝতে পেরেছিল, অর্থনীতির গতি হয়ে পড়বে ধীর। সেকথা ভেবেই আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনীতির পরিকাঠামোয় কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। কয়েকটি জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য এনেছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নামে এক প্যাকেজ। এর ফলে অতিমহামারীর সময় সংস্কার হবে দ্রুত।