ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভয়াবহ হামলার শিকার মালদহের এক দশম শ্রেণির ছাত্রী। টিউশন থেকে ফেরার পথে গলায় ছুরি চালিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 December 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভয়ঙ্কর হামলা। ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক দশম শ্রেণির ছাত্রীর (Class X student) গলায় ছু়রি চালিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ (Malda) জেলার মালদহ থানা (Malda Police Station) এলাকার সাহাপুর অঞ্চলের রায়পুর জোতগোবিন্দ গ্রামে (Raipur Jot Gobindo village)। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ছাত্রী এখন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Malda Medical College and Hospital) চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত যুবকের নাম সুরজিৎ মণ্ডল (Surjit Mondal)। ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, মেয়েটি নিয়মিত স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরেই ওই যুবক কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হচ্ছিল। রাস্তায় বেরোলেই ইভটিজিং চলত। বিষয়টি বাড়িতে জানিয়েছিল ছাত্রী। পরিবার থেকেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্ত যুবক।
পড়াশোনার পাশাপাশি ওই ছাত্রী নিয়মিত প্রাইভেট টিউশন পড়তে যেত। মঙ্গলবারও (Tuesday) প্রতিদিনের মতো টিউশন শেষ করে একাই বাড়ি ফিরছিল। অভিযোগ, ফাঁকা রাস্তার সুযোগ নিয়ে পিছন পিছন আসে সুরজিৎ। আচমকা পথ আটকে দাঁড়ায়। তারপর কোনও কথা না বলেই ধারালো ছুরি দিয়ে ছাত্রীর গলায় কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে শুরু করে সে।
ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। রক্তে ভেসে যাওয়া অবস্থায় পড়ে থাকা ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে পরিবারের লোকজন এবং পরে স্থানীয়দের সাহায্যে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ছাত্রীর গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্ত যুবক ছাত্রীর মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। রাস্তায় মেয়েদের নিরাপত্তা (Women safety) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, নিয়মিত ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলেও পুলিশি নজরদারি ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী পারভিন বলেন, “রাস্তাঘাটে মেয়েদের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এই ঘটনায় চরম গাফিলতি হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে মালদহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ছাত্রীর পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযুক্ত সুরজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক কিশোরী নির্যাতনের ঘটনাগুলি ফের নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মালদহের এই ঘটনায় ফের একবার প্রকাশ্যে এল, রাস্তায় বেরোনো মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কতটা বাস্তব। পরিবার ও স্থানীয়দের একটাই দাবি, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোনও ছাত্রীকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।