দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার সকালে পেগাসাস কেলেংকারি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিটি ফোনেই আড়ি পাতা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তিনি ভয় পান না। কারণ একমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ও চোররাই মোদী সরকারকে ভয় পায়। এর কিছুক্ষণ পরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা টুইট করে বলেন, “রাহুল গান্ধীও স্বীকার করে নিলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজন মোদীকে ভয় পায়। তিনি যে সত্যি কথা বলেছেন, তাতে ভাল লাগল।”
https://twitter.com/himantabiswa/status/1418463589984178182
রাহুল নিজে অভিযোগ করেন, তাঁর ফোনে আড়ি পাতা তো হতই, সেই সঙ্গে দেহরক্ষীদের কাছেও খোঁজ নেওয়া হত, তিনি কোথায় গিয়েছেন, কী করেছেন। তাঁর কথায়, “আমার প্রতিটি ফোনেই আড়ি পাতা হত।” সরাসরি ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর নাম করে তিনি বলেন, “গোয়েন্দারা আমাকে ফোন করতেন। আমার দেহরক্ষীদেরও জানাতে হত, আমি কী কথা বলেছি। আমার সব কথা যে আড়ি পেতে শোনা হত, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।” পরে তিনি বলেন, “আমি ভীত নই। আমাকে ভয় দেখানো যাবে না। এদেশে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং চোর, তারাই ভয় পায়। কেউ যদি অপরাধ না করে, তার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
রাহুল দাবি করেছিলেন, ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে তদন্ত হোক। সেই তদন্তের ওপরে নজর রাখুক কোর্ট। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় কুমার বলেন, পেগাসাস নিয়ে যা বলার আমরা বলেছি। এই নিয়ে তদন্ত করার কিছু নেই। যারা রাজনীতিতে ব্যর্থ, যাদের হাতে কোনও ইস্যু নেই, তারাই পেগাসাস নিয়ে হইচই করছে।
গত রবিবার একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়, দেশের তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সরকারি আমলা, বিজ্ঞানী-সহ তিনশোরও বেশি মোবাইল ফোন হ্যাক করে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠছে ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও-র দিকে, আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যারা পরিচিত ‘সাইবার অস্ত্রের ডিলার’ হিসেবে। ইজরায়েলি সাইবার ইনটেলিজেন্স সংস্থা এনএসও গ্রুপের তৈরি বিশেষ সফটওয়্যারই দেশের সাইবার নিরাপত্তা বলয়ে ফাটল ধরিয়েছে বলেই অভিযোগ। এই সফটওয়্যারের নাম পেগাসাস স্পাইওয়্যার।
পেগাসাস বিতর্কে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। শুক্রবার অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিও তোলেন তাঁরা। ফোনে আড়ি পাতার বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করা হয়।