
মৃত সুতন্দ্রা
শেষ আপডেট: 24 February 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিপদ বলে কয়ে আসে না। সুতন্দ্রারও আসেনি। কিন্তু তাঁর অসহায়তা নাড়িয়ে দিয়েছে মানুষকে। তুলেছে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।
গাড়ি নিয়ে গয়া (Gaya) যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। কাঁকসার পানাগড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে গাড়ি নিয়ে সুতন্দ্রার গাড়ি ধাওয়া করে কয়েকজন মদ্যপ যুবক। শুধু ধাওয়া করা নয়, তরুণীকে লক্ষ্য করে লাগাতার নোংরা অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তি তো বটেই দু'-দুবার সুতন্দ্রার গাড়িতে ধাক্কাও মারে তারা।
মদ্যপদের হাত থেকে বাঁচতেই তরুণীর গাড়ি চলে যায় রাস্তার উল্টো লেনে। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। তাতেই মৃত্যু হয় ওই সুতন্দ্রার।
পাড়ার মেয়ের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চন্দননগরের নাড়ুয়া রায়পাড়া। সুতন্দ্রাকে প্রতিবেশীরা 'মাম' নামেই ডাকতেন। তাঁরা এই ঘটনার পর থেকে কার্যত বাকরুদ্ধ। ছোট থেকেই ভাল নাচ করতেন তরুণী। পরে নিজেরাই একটা নাচের গ্রুপ তৈরি করেন। বাইরে বাইরে অনুষ্ঠানও করতেন।
নয় মাস আগেই সুতন্দ্রার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মা-ঠাকুমা-মেয়েতে একসঙ্গেই থাকতেন। প্রতিবেশীদের কথায়, রাস্তার অসহায় কুকুরদের জন্য নিজে রেঁধে খাওয়াতেন তাঁদের আদরের 'মাম'। সেই মেয়েই এমন অসহায় ভাবে চলে গেল, এখনও ভাবতে পারছেন না তাঁরা। দোষীদের শাস্তি চাইছেন তাঁরা।
খবর পেয়ে সুতন্দ্রাদের বাড়িতে পৌঁছন চন্দননগর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহিত নন্দী। তিনি বলেন, "সুজনদার বাবা সুকান্ত আমার সহপাঠী ছিল। এখনও বছর ঘোরেনি তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই ওঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছি না। যা শুনছি সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে এই ধরনের দুষ্কৃতীদের ক্ষমা করা উচিত নয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।
ইতিমধ্যে দু'টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা এখনও অধরা। জানা গেছে, একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই গয়া যাচ্ছিলেন সুতন্দ্রা। গাড়িতে তাঁর সহকর্মীরা ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, সুতন্দ্রার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি দোকানে ধাক্কা মারে, তারপর একটি শৌচালয়ে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। গাড়িতে থাকা বাকিরা অল্প আহত হলেও ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
গাড়িতে থাকা অন্য এক যাত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, লাগাতার ধাওয়া করতে করতে যুবকদের গাড়িটি তাঁদের গাড়ির সামনে চলে এসেছিল, তারপরই ধাক্কা মারে। জাতীয় সড়কে মহিলার হেনস্থা ও মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিল এ রাজ্যে।