কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম যেমন চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তেমনই বাদও পড়েছে। এখন থেকে ভোটাররা বাড়িতে বসেই অনলাইনে দেখে নিতে পারবেন তাঁদের নাম কোন অবস্থায় রয়েছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 24 March 2026 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার মধ্যরাতে রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের (Under Adjudication) ভাগ্য নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৯ লক্ষের ফয়সালা করা অতিরিক্ত (Supplementary List 2026) প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে (Supplementary List)। কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম যেমন চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তেমনই বাদও পড়েছে। এখন থেকে ভোটাররা বাড়িতে বসেই অনলাইনে দেখে নিতে পারবেন তাঁদের নাম কোন অবস্থায় রয়েছে। যদিও প্রথম তালিকা থেকে কত নাম বাদ গিয়েছে, সে ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন।
কীভাবে দেখবেন নিজের নাম?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকার মতোই এবারও নাম যাচাইয়ের পদ্ধতি একই রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মূল ওয়েবসাইট (eci.gov.in), রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পোর্টাল (ceowestbengal.wb.gov.in) অথবা ‘ইসিআই নেট’ (ECI Net) অ্যাপের মাধ্যমে আপনার নাম থাকল না কাটল, জানা যাবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে ভাষা, রাজ্য এবং নিজের এপিক (EPIC) নম্বর দিয়ে ‘ক্যাপচা কোড’ পূরণ করে সার্চ করলেই বিস্তারিত তথ্য মিলবে। যদি সব ঠিক থাকে, তবে তালিকায় নাম দেখা যাবে। যদি যাচাই প্রক্রিয়া এখনও শেষ না হয়, তবে নামের নীচে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (Adjudication) লেখা থাকবে। যদি নাম মুছে দেওয়া হয়, তবে সেখানে ‘ডিলিটেড’ (Deleted) শব্দটি ফুটে উঠবে।
কমিশন এই অতিরিক্ত তালিকাটি দু'টি ভাগে ভাগ করেছে। ‘অ্যাডিশন লিস্ট’ (যাঁদের নাম নতুন করে জুড়ল) এবং ‘ডিলিশন লিস্ট’ (যাঁদের নাম বাদ গেল)। যদি কারও নাম অ্যাডিশন লিস্টে না থাকে, তবে বুঝতে হবে তাঁর আবেদন খারিজ হয়েছে।
নাম বাদ গেলে করণীয় কী?
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রতিকারের জন্য ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের মাথায় থাকছেন এক জন করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইন ও অফলাইন, দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। অফলাইনের ক্ষেত্রে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে আবেদন করা যাবে। অনলাইনের ক্ষেত্রে ইসিআই নেট অ্যাপ বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে যথাযোগ্য নথিপত্র দিয়ে আপিল করা সম্ভব।
কবে থেকে আবেদন: সোমবার তালিকা প্রকাশ হওয়ায় মঙ্গলবার নয়, সম্ভবত বুধবার থেকে এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
ট্রাইব্যুনাল চালুর প্রক্রিয়া
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনাল অফিসের পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়বে হাইকোর্টে। আদালতের নিযুক্ত পর্যবেক্ষক ওই অফিসগুলি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করলে তবেই ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করবে। সমস্ত আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনাল বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসংগতির কারণে বিবেচনাধীন রাখা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারকরা প্রতিটি নথি খুঁটিয়ে যাচাই করার পর এই অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করেছেন। এই ২৯ লক্ষের বাইরে বাকি ৩১ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করা হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর।