দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৩০ বছর ধরে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ মঞ্চ হুরিয়ত কনফারেন্সের স্থায়ী সভাপতি ছিলেন তিনি। কিন্তু ৯০ উত্তীর্ণ গিলানি সম্প্রতি এক অডিও মেসেজে জানিয়েছেন, তিনি সংগঠন ছাড়ছেন। সংগঠনের মধ্যে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, সেজন্যই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। যদিও তিনি ঠিক কী অবস্থার কথা বলতে চাইছেন জানাননি।
গত শতকের ন'ইয়ের দশকে গিলানি হুরিয়তের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১০ সাল থেকে বেশিরভাগ সময় তিনি গৃহবন্দি হয়ে থাকতেন। অডিও মেসেজে তিনি বলেছেন, "হুরিয়ত কনফারেন্সে এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আমি এই সংগঠন থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করছি। হরিয়তের প্রত্যেক শরিককে আমি আগেই এ সম্পর্কে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।"
হুরিয়ত থেকে গিলানির পদত্যাগ কাশ্মীরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে ধরা হচ্ছে। গত অগাস্ট মাসে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারার বিলোপ ঘটায়। জম্মু-কাশ্মীরে দু'টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। কাশ্মীর উপত্যকার বহু নেতাকে বন্দি করা হয়। একটি সুত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, কাশ্মীরে এতবড় ঘটনা ঘটছে, অথচ গিলানি চুপ কেন? তিনি কোনও আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন না কেন? এর পরেই গিলানির সঙ্গে হুরিয়তের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
গিলানি তিনবার সোপর থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কাশ্মীরে জঙ্গিবাদ দেখা দেওয়ার পরে তিনি নির্বাচনী রাজনীতি ত্যাগ করেন। একটি সূত্রে জানা যায়, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জঙ্গি খতম হয়েছে। তার মধ্যে একজন জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের কম্যান্ডার মাসুদ আহমেদ ভাট। কাশ্মীর পুলিশ দাবি করেছে, এই এনকাউন্টারের সঙ্গেই ডোডা জেলা জঙ্গি মুক্ত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে গোপন সূত্রে নিরাপত্তারক্ষীরা খবর পান, অনন্তনাগে কিছু জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ভোর রাতেই ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আধিকারিকরা তল্লাশি অভিযান শুরু করেন তাঁরা। নিরাপত্তারক্ষীদের দেখতে পেয়েই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। শুরু হয় এনকাউন্টার।
সূত্রের খবর, একটি বাড়িতে জঙ্গিরা লুকিয়ে ছিল। বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন জওয়ানরা। বেশ কিছুক্ষণের গুলি বিনিময়ের পরে তিন জঙ্গিই খতম হয়। তিন জঙ্গির কাছে এ কে ৪৭ বন্দুক ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।