সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য সব রাজ্য ডিএ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই তা মানা হচ্ছে না। উল্টে বলা হচ্ছে, এটা নাকি দয়ার দান।

অবস্থানে অনড় বিক্ষোভকারীরা
শেষ আপডেট: 5 August 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএ ইস্যু (DA) নিয়ে জটিলতা এখনও বহাল। সোমবার এই মামলা শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। রাজ্য সরকার (State Govt) সেই শুনানিতে ফের ২ মাসের সময় চেয়েছে। এতেই আরও ক্ষোভ বেড়েছে আন্দোলনকারীদের। দুর্গাপুজোর অনুদান সহ বাকি অন্যান্য খরচের প্রসঙ্গে তুলে তাঁদের দাবি, রাজ্যের মানুষের করের কোটি কোটি টাকা খরচ করছে রাজ্য সরকার, এদিকে বকেয়া ডিএ দিচ্ছে না। এর কোনও যৌক্তিকতা নেই।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutho Mancha) তরফে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য সব রাজ্য ডিএ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই তা মানা হচ্ছে না। উল্টে বলা হচ্ছে, এটা নাকি দয়ার দান। বিক্ষোভকারীদের খোঁচা, কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) থেকে শুরু করে স্যাট (SAT) - সব জায়গায় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। সেই কারণে তারা সুপ্রিম কোর্টে গেছে। আশা, দেশের শীর্ষ আদালতও ডিএ প্রদানের ন্যায়েই রায় দেবে।
আন্দোলনরতরা মনে করান, এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) এবং দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) মৌলিক অধিকারের হয়েই নির্দেশ দিয়েছে। এবারও তাই হবে এবং তারা আশাবাদী সুপ্রিম কোর্টেও দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হবে। এক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতীত মনে করান তারা। এক বিক্ষোভকারী সংবাদমাধ্যমে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন সরকারকে নিশানা করে বলেছিলেন - যে সরকার ডিএ দিতে পারে না, তার ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। আর এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার, সাঙ্গপাঙ্গরা বলছে এটি দয়া। রাজ্য সরকার যে স্পষ্টত দ্বিচারিতা করছে, সেই দাবই করেছেন তাঁরা। তবে এও আশা, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের সব জারিজুরি ভেঙে যাবে।
পুজোর অনুদান প্রসঙ্গে তাদের মত, এই খাতে খরচ করলে মাত্র কটা দিনের জন্য তা বাজারে আসবে। অন্য রাজ্যে পুজো নেই, ডিএ আছে, তাই সারা বছর শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি হাজার, বারোশো টাকা। আর বাংলায় ডিএ নেই বলে সেটা ৪০০ টাকার ওপরে উঠছে না। সেই কারণে এ রাজ্য থেকে বাঙালিরা চলে যাচ্ছে। এটা আসলে অবক্ষয়, রাজ্যবাসীর অবক্ষয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে তাঁরা আরও বলছেন, ডিএ মৌলিক অধিকার। তা না দিলে একাধিক ক্ষেত্র ধসে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী হয় এটা বুঝছেন না, বা বুঝতে চাইছেন না। সেই কারণে রাজ্যকে চোর, দুর্নীতিবাজ, মাতালদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।