Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ!’ নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তৃণমূল সরকারকে তোপ মোদীরঅভিষেক পত্নীকে টার্গেট করছে কমিশন! হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নেতাদের হেনস্থার ছক? সরাসরি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলেরIPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের

১৩ ফুট দূরত্বে ছড়াতে পারে ভাইরাস ড্রপলেট, নতুন গাণিতিক মডেলে দাবি বেঙ্গালুরু আইআইএসসি-র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সংক্রামক আরএনএ স্ট্রেন সার্স-কভ-২ এয়ারবোর্ন কিনা সে নিয়ে মতান্তর রয়েছে। শুরুতে গবেষকরা বলেছিলেন, এই ভাইরাস হাওয়ায় ছড়াতে পারে না। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সার্স-কভ-২ বাতাসে ভেসে অনেকটা দূর যেতে পারে। তবে এরজন্য তাদের

১৩ ফুট দূরত্বে ছড়াতে পারে ভাইরাস ড্রপলেট, নতুন গাণিতিক মডেলে দাবি বেঙ্গালুরু আইআইএসসি-র

শেষ আপডেট: 2 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সংক্রামক আরএনএ স্ট্রেন সার্স-কভ-২ এয়ারবোর্ন কিনা সে নিয়ে মতান্তর রয়েছে। শুরুতে গবেষকরা বলেছিলেন, এই ভাইরাস হাওয়ায় ছড়াতে পারে না। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সার্স-কভ-২ বাতাসে ভেসে অনেকটা দূর যেতে পারে। তবে এরজন্য তাদের দরকার হয় একটা আধার। সেটা মানুষের হাঁচি, কাশি, থুতু বা লালা হতে পারে। যাকে বলা হয় রেসপিরেটারি ড্রপলেট (Respiratory Droplet) । এই রেসপিরেটারি ড্রপলেটকে আঁকড়ে ধরেই ভাইরাস বাতাসে বেশ কিছুক্ষণ টিকেও থাকতে পারে। এখন ড্রপলেটে থাকা ভাইরাস কতটা দূর অবধি ছড়াতে পারে সেই নিয়ে নানা বিজ্ঞানীর নানা মত। বিভিন্ন আর্টিকলও রয়েছে সায়েন্স জার্নালগুলিতে। বেঙ্গালুরুর ইন্টিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি) এই ব্যাপারে তাদের নতুন গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছে। https://twitter.com/iiscbangalore/status/1278213792816459776 আইআইএসসি-র গবেষকরা বলছেন মানুষের থুতু, লালা বা কাশির মাধ্যমে যে ভাইরাল স্ট্রেন বেরিয়ে আসছে সেটা ওই রেসপিরেটারি ড্রপলেটে করেই অন্তত ১৩ ফুট অবধি ভেসে যেতে পারে। তবে ভাইরাস বাতসে কতটা ছড়াবে এবং কতক্ষণ টিকে থাকবে অর্থাৎ তার ইনকিউবেশন পিরিয়ড কতটা হবে সেটা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের উপরে যেমন বাতাসের গতি, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, কতজন মানুষ রয়েছেন এবং কত কাছাকাছি রয়েছেন ইত্যাদি। অ্যারোডায়ানামিক্স (Aerodynamics) ও ইভাপোরেশনের নির্ভর করে যে গাণিতিক মডেল তৈরি হয়েছে তাতে দেখা গেছে, যে কোনও ভাইরাস ড্রপলেটই কম করেও ১৩ ফুট দূরত্ব যেতে পারে। তবে আকার ও আয়তনের উপরে এই ড্রপলেটের ভেসে যাওয়াও নির্ভর করে। বিজ্ঞানীদের মতে, পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব ৬ ফুট খুব একটা নিরাপদ নয়। সংক্রমণ ঠেকাতে হলে পরস্পরের মধ্যে কম করেও ১৩ ফুট দূরত্ব রাখা দরকার। প্রয়োজনে তার বেশি। ‘ফিজিক্স অব ফ্লুইড’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। এই রিসার্চ টিমের সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর বিজ্ঞানী শ্বেতাপ্রভ চৌধুরী বলেছেন, ভাইরাস ড্রপলেটের আকার, কতটা ভাইরাস ক্লাউড তৈরি হচ্ছে এবং তাদের লাইফটাইম কত—অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। যদি বাতাসের গতি বেশি না থাকে তাহলে ভাইরাস ড্রপলেট অনেকটা দূর অবধি ছড়াতে পারে। না হলে ড্রপলেট মাটিতে পড়ে কোনও পদার্থে বা সারফেসে জমে থাকে। সেই পদার্থ যদি মসৃণ হয় তাহলে ভাইরাস ড্রপলেট সাত দিনের বেশি টিকে থাকতে পারে। আইআইএসসি-র ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, ১৮ থেকে ৫০ মাইক্রন সাইজের ভাইরাস ড্রপলেট ৬ ফুটের বেশি দূরত্ব যেতে পারে। সেটা ৮ ফুট থেকে ১৩ ফুট বা তারও বেশি হতে পারে। ম্যাক্রোস্কেল প্যানডেমিক ডায়ানামিক্স ও মাইক্রোস্কেল ড্রপলেট ফিজিক্স—এই দুই রকম স্কেলে বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই গাণিতিক মডেলের উপর ভিত্তি করে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চললে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমবে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। বিশেষত স্কুল, কলেজ বা অফিসে যদি এই নিয়ম মেনে চলা যায়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনায় কমবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ভাইরাস ড্রপলেট কতটা দূর অবধি ছড়াতে পারে এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা মত আছে। এখনও অবধি কী কী তথ্য পাওয়া গেছে—
  • ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক লিদিয়া বোরুইবা দাবি করেছেন, রেসপিরেটারি ড্রপলেটে করে অন্তত ২৭ ফুট অবধি বাহিত হতে পারে করোনাভাইরাস। কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ভেসেও থাকতে পারে। ‘আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল এপ্রিলে।  লিদিয়া দাবি করেছিলেন, ভাইরাস ড্রপলেট যেমন সারফেসে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে, তেমনি হাওয়াতেও কযেক ঘণ্টা ভেসে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে পারস্পরিক দূরত্ব ৬ ফুট নয়, অনেক বেশি রাখা দরকার।
  • নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে দাবি করা হয়েছিল, এই রেসপিরেটারি ড্রপলেট এতটাই ভারী যে এটি বাতাসে বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। মাটিতে বা কোনও সারফেসে জমে থাকে। কিন্তু যদি আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি কেউ থাকে (এক মিটারের কম দূরত্বে) তাহলে সেই ড্রপলেট সুস্থ ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শে এসে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটায়।
  • ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL)-এর ভাইরোলজিস্ট ডক্টর লীনা সিরিক ও তাঁর টিম দাবি করেছেন, মসৃণ পদার্থ বা সারফেস যেমন টেবিল, বেডের হাতল বা বেড রেল, দরজার হ্যান্ডেল ইত্যাদিতে ভাইরাল স্ট্রেনের জমে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ মসৃণ পদার্থ হলে ভাইরাসের বেঁচে থাকার সময় বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড অনেক বেড়ে যায়। তাই দেখা গেছে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলিতে ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। কোনও ওয়ার্ডে তিনদিনের মধ্যে  প্রায় ৮৬ শতাংশ জায়গাজুড়ে ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • সাইপ্রাসের ইউনিভার্সিটি অব নিকোসিয়ার বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাওয়ার গতি যদি প্রতি ঘণ্টায় চার কিলোমিটার হয়, তাহলে রেসপিরেটারি ড্রপলেটে থাকা ভাইরাস পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে ১৮ ফুট দূরত্ব অবধি যেতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব নিকোসিয়ার গবেষক দিমিত্রিস দ্রিকাকিস বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক হোক বা শিশু, যে কোনও উচ্চতার মানুষের কাছেই পৌঁছে যেতে পারে বাতাসে ভেসে আসা ওই ভাইরাস ড্রপলেট। তাই করোনা রোগী বা তার সংস্পর্শে আসা কোনও ব্যক্তির কাছাকাছি যেতে হলে পারস্পরিক দূরত্ব ১৮ ফুটেরও বেশি রাখা দরকার।
  • চিনের বিজ্ঞানীদের গবেষণার উপর ভিত্তি করে ফিজিক্স অব ফ্লুইড’ (Physics Of Fluid) সায়েন্স জার্নালে নতুন গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে, শৌচাগারে এই ভাইরাস-ক্লাউড তৈরির সম্ভাবনা অনেক বেশি।  বিশেষত,  কমোডে যদি একবার ফ্লাশ করা হয় তাহলে জলের যে ঘূর্ণি তৈরি হয় তার থেকেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাস। এমনকি রোগীর শরীর থেকে রেসপিরেটারি ড্রপলেটে যে ভাইরাস বেরচ্ছে সেটাও ঘন হয়ে জমে থাকতে পারে শৌচাগারের মাটিতে বা কোনও পদার্থের উপরে। ভাইরাস ড্রপলেটের পরিমাণ বাড়লে বাতাসে ৩ ফুট উচ্চতা অবধি ভাইরাস-ক্লাউড তৈরি হতে পারে।

```