দ্য ওয়াল ব্যুরো : জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাজস্থানের এক পুরোহিতের গায়ে আগুন দেয় দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তাঁর পরিবার বলেছিল, খুনিদের সকলে যতক্ষণ না ধরা পড়ছে, ততক্ষণ শেষকৃত্য করতে দেওয়া হবে না। দীর্ঘক্ষণ মৃতদেহের শেষকৃত্য করা যায়নি। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় মৃত পুরোহিতের পরিবার শেষকৃত্যের অনুমতি দিল।
মৃত পুরোহিতের নাম ছিল বাবুলাল বৈষ্ণব। ললিত নামে তাঁর এক আত্মীয় বলেন, "প্রত্যেক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। যে রাজস্ব অফিসার ও পুলিশকর্মীরা খুনিদের সাহায্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদেরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।" মৃতের পরিবারের অপর সদস্যরা দাবি করেন, ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চাকরি দিতে হবে পরিবারের একজনকে।
শনিবার সকালে কারাউলি জেলার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অমপ্রকাশ মিনা পুরোহিতের বাড়িতে যান। তাঁর বাড়ির লোকজনকে তিনি বলেন, বাবুলাল বৈষ্ণবের মৃত্যুর পর দেড়দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এবার মৃতদেহটি দাহ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। জয়পুরের সাংসদ রামচরণ বোহরার নেতৃত্বে বিজেপির এক প্রতিনিধি দল এদিন মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। পরিবারের দাবি সমর্থন করেন বিজেপির প্রতিনিধিরা।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ১৭৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কারাউলি জেলায় একটি রাধাকৃষ্ণ মন্দির আছে। পুরোহিত বাবুলাল বৈষ্ণব যে জমি চাষ করতেন, তা ছিল ওই মন্দিরের সম্পত্তি। অনেক সময় অছি পরিষদ কোনও পুরোহিতকে মন্দিরের জমিতে চাষ করতে দেয়। বিনিময়ে সেই পুরোহিত রোজ মন্দিরে পুজো করেন ও অন্যান্য ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করেন। রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের ট্রাস্টও বাবুলাল বৈষ্ণবকে ১৩ বিঘা বা ৫.২ একর জমি চাষ করতে দিয়েছিল।
পুরোহিত চেয়েছিলেন, ওই জমির লাগোয়া বাড়ি বানাবেন। সেখানে জমি ছিল অসমান। বাড়ি বানানোর আগে আর্থ মুভার দিয়ে জমি সমতল করা প্রয়োজন ছিল। এই সময় স্থানীয় মিনা সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করে, ওই জমি তাদের সম্পত্তি। সেই বিরোধ মেটানোর জন্য উভয়পক্ষ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে যায়। তাঁরা পুরোহিতের পক্ষে রায় দেন। পুরোহিত তখন সেই জমি দখল করেন। তাঁর ক্ষেতে উৎপাদিত বাজরা সেই বিতর্কিত জমিতে রাখেন। এমন সময় এক অভিযুক্ত সেই জমিতে বাড়ি বানাতে চেষ্টা করে। তা নিয়ে শুরু হয় ঝগড়া।
পুরোহিত মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছেন, ছ'জন তাঁর বাজরার ওপরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি বাধা দিতে গেলে দুষ্কৃতীরা তাঁর গায়েও আগুন লাগিয়ে দেয়। তাঁকে জয়পুরের এসএমএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।