
বোলপুরে অগ্নিকাণ্ড, প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 July 2024 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বগটুইয়ের ছায়া বীরভূমে। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে মা ও ৪ বছরের ছেলের। বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বাবা। নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বোলপুর থানার রায়পুর সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন গীত গ্রামে। অভিযোগ, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনজনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়।
গভীর রাতে আর্ত চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্ধমান নিয়ে আসার পথে প্রথমে চার বছরের শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়। এর কিছুক্ষণ পড়েই মারা যায় তার মা রূপা বিবি (৩০)। বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বাম চাঁদাইপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবা সেখ তোতা (৩৮)। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ওই পরিবারের আত্মীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়াদাওয়া করে ছোট ছেলে আয়ান শেখ ও স্ত্রী রূপা বিবিকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন সেখ তোতা। এই সময় কেউ জানলা দিয়ে কেরোসিন তেল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁদের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় পাশের ঘরে থাকা তাদের বড় ছেলে শেখ রাজের। তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন গ্রামের লোকজন। ততক্ষণে তিনজনেই আগুনে ঝলসে গেছে । কোনওক্রমে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে রওনা হন পড়শিরা।
অগ্নিদগ্ধ সেখ তোতার ভাই সেখ উজির বলেন, "আমার দাদা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। ব্যবসায়িক কারণেই তাঁর শোয়ার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমার দাদার জেসিবি মেশিন ও ট্রাক্টরের ব্যবসা আছে। সেই নিয়েই হয়তো শত্রুতা। আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লেগেছে। কিন্তু পরে দেখলাম সুইচ বোর্ড ও এসি মেশিন সবই অক্ষত আছে। ঘরে কেরোসিনের গন্ধ। জানালা দিয়ে তেল ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
২০২২ সালের ২১ মার্চ রাতে বীরভূমের রামপুরহাট থানার ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান ভাদু শেখকে। সেই রাতেই ভাদুর অনুগামীরা বগটুইয়ের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের। বোলপুরের ঘটনায় সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরল আবার।