দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেসের জন্য এমন কোনও সভাপতি চাই যিনি সারাক্ষণ দলের জন্য সময় দিতে পারবেন। এই মর্মে দলের হাইকম্যান্ডের কাছে চিঠি লিখেছিলেন ২৩ জন প্রথম সারির নেতা। তাঁরা কার্যত দলনেত্রী সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন বলেই মনে করেছিল কংগ্রেসের অনেকে। মঙ্গলবার সেই বিক্ষুব্ধদের অনেককে নিয়েই পার্লামেন্টারি স্ট্র্যাটেজি গ্রুপের বৈঠকে বসছেন সনিয়া। সংসদে দল কী কৌশলে সরকারকে আক্রমণ করবে, তা স্থির হবে এদিনের বৈঠকে।
এর আগে গত ২৪ অগাস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে বিক্ষুব্ধদের চিঠি নিয়ে তুলকালাম হয়। ওই চিঠিতে যাঁদের স্বাক্ষর ছিল, তাঁদের মধ্যে দু'জন পার্লামেন্টারি স্ট্র্যাটেজি গ্রুপের সদস্য। তাঁরা হলেন গুলাম নবি আজাদ ও আনন্দ শর্মা। ওই গ্রুপে অবশ্য সনিয়ার অনুগামীরাও আছেন। বিক্ষুব্ধদের নিষ্ক্রিয় করার জন্যই তাঁদের ওই গ্রুপে রাখা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর। গত মার্চে লকডাউন জারি হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেশ কয়েকটি অর্ডিন্যান্স এনেছেন। সংসদ বসলে কংগ্রেস সেই অর্ডিন্যান্সগুলির তীব্র বিরোধিতা করবে বলে জানা গিয়েছে। দলের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, পিএম কেয়ারস ফান্ড নিয়ে আনা একটি অর্ডিন্যান্সের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস। তবে সাধারণভাবে নতুন কর বসানো নিয়ে যে অর্ডিন্যান্স আনা হয়েছে, কংগ্রেস তা সমর্থন করবে। সাংসদদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত কংগ্রেস সমর্থন করবে। কিন্তু দু'বছরের জন্য এমপিল্যাড ফান্ডে টাকা দেওয়া বন্ধ করার যে অর্ডিন্যান্স আনা হয়েছে, তার বিরোধিতা করা হবে। কংগ্রেসের বক্তব্য, সেক্ষেত্রে এলাকায় এলাকায় উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, 'কৃষকদের জন্য এক দেশ এক বাজার' নীতিরও বিরোধিতা করবে তারা। তাদের বক্তব্য, কিষাণ মান্ডিগুলি বন্ধ করে দিলে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। বিশেষত মান্ডিগুলিতে যে গরিব মানুষজন কুলির কাজ করেন, তাঁদের অবস্থা হবে সবচেয়ে খারাপ। তাছাড়া এই ধরনের আইন হলে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হবে।
সনিয়া এর আগে বলেছিলেন, যাঁরা 'সর্বক্ষণের সভাপতি' চেয়ে চিঠি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তাঁর কোনও রাগ নেই। কিন্তু চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের কাউকে সংসদীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়নি। এমনকি ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য যে টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে, তাতেও বিক্ষুব্ধরা কেউ নেই।