দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষিতে মূলত জঙ্গি তৎপরতা নিয়েই আলোচনা হবে রাষ্ট্রপুঞ্জে। একটি সূত্রে জানা যায়, মোদী তাঁর ভাষণে বলবেন, জেহাদি মতাদর্শকে রুখতে পাল্টা প্রচার করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে অন্যান্য পন্থারও আশ্রয় নিতে হবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাংহাই কো-অপারেশনের প্লেনারি সেশনে ভাষণ দেন মোদী। সেখানে তিনি বলেন, ওই গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে যেসব সংগঠন সহিষ্ণুতা ও নরমপন্থার শিক্ষা দেয়, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জঙ্গি মতাদর্শের প্রসার শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পক্ষে ক্ষতিকর।
নিজের ৭১ বছরের জন্মদিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ বৈঠকে বক্তব্য পেশ করেন মোদী। তাঁর কথায়, “আফগানিস্তানে এখন কী ঘটছে, আমরা সকলেই দেখছি। সাংহাই কো-অপারেশনের সদস্য হিসাবে আমাদের চেষ্টা করা উচিত যাতে সন্ত্রাসবাদ না বৃদ্ধি পায়। একসময় আফগানিস্তানে শান্তি ছিল। সমৃদ্ধিও ছিল। আমরা চেষ্টা করব যাতে আফগানিস্তান অতীতের সঙ্গে তার যোগসূত্র আবিষ্কার করতে পারে। সেদেশে শান্তি, সহনশীলতা ও ঐক্য ফিরে আসে।”
সাংহাই কো-অপারেশনে ইরানকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মোদী বলেন, সেদেশের চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে সকলের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। তবে কোনও প্রকল্প রূপায়ণ করার সময় খেয়াল রাখা উচিত যাতে তার ফলে অপর কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন না করা হয়। কয়েক বছর ধরে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প রূপায়ণ করার চেষ্টা করছে দুই দেশ। ভারত ওই প্রকল্পকে স্বীকৃতি দেয়নি। কারণ ওই তথাকথিত করিডোর গিয়েছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চেষ্টা চালাচ্ছেন যাতে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয় আন্তর্জাতিক মহল। সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, "তালিবান এখন পুরো আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছে। তারা যদি যুদ্ধরত সব পক্ষকে নিয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে দীর্ঘ ৪০ বছর বাদে আফগানিস্তানে শান্তি ফিরবে। কিন্তু যদি সকলকে নিয়ে সরকার না গড়া হয়, তাহলে সৃষ্টি হবে বিশৃঙ্খলা। বহু শরণার্থী প্রতিবেশী দেশগুলিতে ভিড় করবেন।"
অন্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কেউ যদি ভাবে বাইরে থেকে কেউ আফগান মহিলাদের স্বাধীনতা দেবে, সে ভুল করছে। আফগান মহিলাদের যথেষ্ট ক্ষমতা আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা নিশ্চয় নিজেদের অধিকার আদায় করবেন।"