শেষ আপডেট: 4 December 2019 07:54
সন্তানকোলে নবদম্পতি।[/caption]
মিঠু মালিকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয় জয়দেব পাত্রর। এ জানাজানি হয়ে যায় দুই পরিবারেই। তার পর থেকে দুই পরিবারে অশান্তি চরমে ওঠে।
মাস পাঁচেক আগে বিশ্বজিৎ ও মিঠুকে অশালীন অবস্থায় দেখে ফেলেন গ্রামের লোকজন। এই ঘটনার পরেই বিষ খান মিঠু। প্রথমে তাঁকে উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। এক সপ্তাহ পরে মিঠু মারা যান। মিঠুর মৃত্যুর খবর পেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বিশ্বজিৎ।
বিশ্বজিতের মৃত্যুর জেরে সংসার অচল হয়ে পড়ে সরস্বতীর। ছোট মেয়েকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন তিনি। তিনি পঞ্চায়েতে যান সাহায্যের জন্য। পঞ্চায়েত থেকে তাঁকে চাল দেওয়া হয়। কিন্তু এ ভাবে আর কত দিন চলে!
কিছুদিন পরে মিঠুর স্বামী জয়দেব মালিকও পঞ্চায়েতে সমস্যার কথা জানান। বাড়িতে স্ত্রী না থাকায় ছেলেকে দেখভাল করার করার কেউ নেই। আর এ ব্যাপারে পঞ্চায়েতই বা কী করতে পারে!
দেবীপুর পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত দে বলেন, “দু’জনেই এসেছিল আমার কাছে তাদের দুঃখের কথা বলতে। তাদের কথা শুনে আমি বলেছিলাম, তোমার দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক, তোমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নাও কী ভাবে তোমাদের বাকি জীবন কাটাবে। শিশুদের ভ্যবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত তোমাদেরই নিতে হবে।” প্রশান্ত দে তাঁদের পরামর্শ দেন বিয়ে করার। কারণ তাতে সংসারও বাঁচবে, শিশুদেরও সমস্যা মিটে যাবে।
জয়দেব ও সরস্বতীকে প্রতিবেশীরা বিয়ে করার জন্য বোঝাতে শুরু করেন। প্রথমে তাঁরা কেউই এ ব্যাপারে রাজি ছিলেন না। পরে তাঁরা রাজি হন। স্থানীয় একটি মন্দিরে বৃহস্পতিবার তাঁরা বিয়ে করেন।
সরস্বতী বলেন, “মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে ঘর বেঁধেছি।” একই বক্তব্য জয়দেবের। দু’টি সংসার বেঁচে যাওয়ায় খুশি গ্রামবাসীরা।
গ্রামের বাসিন্দা শৈরেন্দ্র মালিক বলেন, “দু’জনের একটি করে শিশু আছে। ওরা যদি অন্যত্র বিয়ে করত হয়তো শিশুগুলোকে পরে লাঞ্ছিত হতে হত। তার চেয়ে ভাল হয়েছে ওরা নিজেরা সমস্যার কথা বুঝে নিজেরাই নতুন ঘর বেঁধেছে।”
সোমবার সকালে দ্য ওয়াল গিয়েছিল জয়দেব-সরস্বতীর বাড়িতে। তখন মাটির বারান্দায় সরস্বতী রান্না করছেন, তাঁকে সাহায্য করছেন জয়দেব। সরস্বতীর ছোট পাঁচ বছরের মেয়ে পাশে খেলা করছে। জয়দেবের ছেলে স্কুলে গেছে।