
শেষ আপডেট: 12 August 2020 06:59
ওডিশার নন্দনকানন থেকে প্রথম বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয়েছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার শিলা ও স্নেহাশিসকে। তাদের সন্তান কিকা ও রিকা বর্তমানে বেঙ্গল সাফারি পার্কের জঙ্গলে খেলে বেড়াচ্ছে। আরেক সন্তান ইকা জন্মের কিছুদিন পর মারা যায়। স্নেহাশিস এখন আলিপুর চিড়িয়াখানার বাসিন্দা। তার জায়গায় জামশেদপুর থেকে নিয়ে আসা হয় ভিভানকে।
করোনা রুখতে লকডাউন চলায় সাফারি পার্ক এখন বন্ধ। তাই মানুষের যাতায়াত নেই। কাছাকাছি আসার জন্যও এই সময়টাকেই বেছে নেয় শিলা ও ভিভান। ফলস্বরূপ ফের সন্তান প্রসব করল শিলা। সাধারণত ১১০ দিনের মাথায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তাদের শাবক প্রসব করে। এক্ষেত্রে কিছুটা আগেই প্রসব হল বলে মনে করা হচ্ছে।
শুরুতে তিন শাবকের জন্ম দিয়েছিল শিলা। কিকা–ইকা–রিকা। তাদের দেখতে প্রচুর পর্যটকের ভিড় জমেছিল সাফারি পার্কে। যদিও পরবর্তীতে পায়ে সংক্রমণ হয়ে মারা গিয়েছিল ইকা। এরপর থেকেই বেঙ্গল সাফারিতে বাঘের কৃত্রিম প্রজনন সম্ভব কি না তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বন দফতর। এখন একের পর এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রজনন ঘটিয়ে ভবিষ্যতে বাঘ প্রজনন সেন্টার হিসেবে বেঙ্গল সাফারি পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন বনকর্তারা।
গত কয়েক বছরে বেঙ্গল সাফারি পার্ক স্থানীয় মানু্ষ ও পর্যটকদের মন জয় করে নিয়েছে। পর্যটকরা উত্তরবঙ্গে বেড়াতে এলেই একবারটি ঢুঁ মারছেন এই পার্কে। করোনা পরিস্থিতির জন্য পার্ক বন্ধ থাকায় ভ্রমণপিপাসুদের মন খারাপ। পার্ক খুললেই ধীরে ধীরে কিকা–রিকার মতো নতুন অতিথিদেরও সামনে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পার্কের ডিরেক্টর ধর্মদেব রাই বলেন, ‘‘এই তিনটি শাবক ছেলে না মেয়ে তা এখনও জানা যায়নি। জানতে পারলেই তা প্রকাশ্যে আনা হবে। আপাতত তিনটি শাবক ও তাদের মাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভালই আছে তারা।’’