দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় বুধবার রাতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ তৃণমূল নেতা দশরথ তিরকের দলবলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই তেতে উঠল আলিপুরদুয়ার। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকারকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল দলেরই কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাত ১২ টা নাগাদ নিজের গাড়িতে কুমারগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন প্রাক্তন সাংসদ দশরথ তিরকে। সেই সময় সময় ফোর লেনের জাতীয় সড়কে টোল প্লাজায় সাংসদের গাড়ি আটকান টোল প্লাজার কর্মীরা। অভিযোগ, গাড়ির টোল চাইলে টোল প্লাজার কর্মীদের সঙ্গে প্রাক্তন সাংসদের গাড়ির ড্রাইভার ও অন্যান্যদের বচসাও হয়। আর তার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে প্রাক্তন সাংসদের অনুগামীরা টোল প্লাজায় এসে এলোপাথারি ভাঙচুর করে। প্লাজার ১২ টি কম্পিউটার, গেট, জানলা দরজা সব কিছু ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। ভাঙচুরের সময় দশরথ তিরকে নিজেও সেখানে উপস্থিতি ছিলেন বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ বলেন, ‘‘বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় টোল প্লাজায় আমার গাড়ি আটকায় ওখানকার কর্মীরা। সেই সময় আমাদের গালিগালাজ করা হয়। আমি গাড়ি থেকে নেমেওছিলাম। সকালে এলাকার লোকেরা ক্ষোভ জানিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আমি বিষয়টি আমাদের নেতাদের জানিয়েছি।"
অসমগামী ফোরলেনের মহাসড়কে দীর্ঘদিন থেকেই এই টোল প্লাজা চলে। কুমারগ্রাম থানা এলাকার বারোবিশার কাছে গুয়াবাড়ি এলাকাতে এই টোল প্লাজার বরাত পাওয়া সংস্থায় তৃণমূলের বেশকিছু লোকজন রয়েছেন। কিন্তু সেখানে এমন ঘটনা ঘটবে তা ভাবতেই পারছেন না জেলার মানুষ। ইতিমধ্যেই বিষয়টিতে রাজনৈতিক রঙ লেগেছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘‘দশরথ বাবু তৃণমূলের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান। টোল প্লাজার কর্মীরা তাঁর গাড়ি আটকালে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেই বিবাদ মিটে যেত। কিন্তু পদের অহংকারে এই কাণ্ড করেছেন দশরথ তিরকে ও তাঁর লোকজন। মানুষ দেখুক তৃণমূলের আসল চরিত্র।’’
বরাত পাওয়া সংস্থার কর্তা উত্তম প্রধান বলেন, ‘‘আমাদের টোলপ্লাজার কর্মীকে লাঠি ও বন্দুক নিয়ে ধাওয়া করেছেন দশরথবাবুর লোক। আমাদের কাছে সেই ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবার সকালে টোল প্লাজা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটবে আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।"
বৃহস্পতিবার রাতে টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষের তরফে থানায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী সমর্থকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তারপরেই আজ কেন অভিযোগ দায়ের হয়েছে সেই প্রশ্ন তুলে জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকারকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে দলেরই কিছু কর্মী সমর্থকের বিরুদ্ধে। শীলাদেবী অবশ্য জানান, এ ব্যাপারে যা বলার দলের নেতৃত্বকে বলবেন তিনি। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মা বলেন, ‘‘শীলাকে হেনস্থার ঘটনা আমি শুনেছি। আমি শীলার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।"
জেলার পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানান, টোল প্লাজায় ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।