দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: হার্ডিং ব্রিজে দার্জিলিং মেল উঠলেই ঝমাঝম আওয়াজে কানে তালা লাগতো। তারপর ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শিয়ালদহ পৌঁছে দেখতেন রাস্তা ধুয়ে দিচ্ছে কর্পোরেশনের গাড়ি। কথাগুলো বলতে বলতে নস্টালজিয়ায় চোখের কোন চিকচিক করে উঠল সাধনবাবুর।
১৯৫০ সাল। তখন কিশোর বয়স কাটিয়ে যৌবনের দিকে যাচ্ছিলেন জলপাইগুড়ি রায়কত পাড়া এলাকার বাসিন্দা সাধন বোস। পারিবারিক নানা প্রয়োজনে সেই সময় জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন থেকে দার্জিলিং মেলে চেপে বেশ কয়েকবার হলদিবাড়ি, চিলাহাটি হয়ে শিয়ালদহ গেছেন তিনি।
১৯৬৫ সালে ভারত পাক যুদ্ধ আবহে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই রেলপথ। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ফের চালু হল হলদিবাড়ি-চিলাহাটি হয়ে ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এই রেলপথ। তাই আরও অনেক প্রবীণ মানুষদের মতোই নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, প্রাক্তন চা শিল্পপতি সাধনবাবু। স্মৃতিতে ডুব দিয়ে উঠে তিনি জানালেন, ব্রিটিশ আমল থেকে যেই পথ ধরে একসময় ছুটতো দার্জিলিং মেল। ১৯৫০ সাল নাগাদ রাত ৯ টার সময় জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন থেকে দার্জিলিং মেলে চাপতেন। এরপর সেই স্টিম ইঞ্জিন হলদিবাড়ি, চিলাহাটি, পার্বতীপুর ইত্যাদি স্টেশন পার করে ভোর হতে না হতেই শিয়ালদহ পৌঁছে যেতো। এই ভ্রমণ পথে অন্যতম আকর্ষণ ছিল ট্রেনে ডি সরাবজীর বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার এবং ট্রেন যখন হার্ডিং ব্রিজ পার হত তখন কানে তালা ধরানো ঝমঝম আওয়াজ।
তাঁর কথায়, ‘‘সকলের ঘুম ভেঙে যেতো। আওয়াজ এমনই হোতো যে পাশের লোকের কথা পর্যন্ত শোনা যেতো না। এরপর সবার মধ্যে সাজোসাজো রব পরে যেতো কেননা তার খানিকক্ষণ পরেই শিয়ালদহ এসে যাবে। সেই রেলপথ ফের চালু হল। স্টিম ইঞ্জিন এখন আর নেই। রেলপথেও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তাই এখন এই রেল পথ ধরে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়া আবশ্যিক।’’
শিলিগুড়ি থেকে শিয়ালদহ ভায়া বাংলাদেশ কমবেশি ৩৭৩ কিলোমিটার। বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে মালদহ, বর্ধমান হয়ে শিয়ালদহ পৌঁছতে পারি দিতে হয় প্রায় ৫৭৩ কিলোমিটার পথ। এই রেলপথ চালু হওয়ার ফলে অন্তত ২০০ কিলোমিটার পথ কমবে বলে ধারনা ওয়াকিবহাল মহলের।
স্থানীয় বাসিন্দা শিপ্রা রায়চৌধুরী, আজিমুল হক সরকাররা বলেন, ‘‘আমরা চাই এই রেলপথ দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হোক।’’ হলদিবাড়ির বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা চাই পাকাপোক্ত ভাবে এই রেলপথ চালু হোক। এখন হলদিবাড়ি থেকে শিয়ালদহ যেতে অন্তত ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এই লাইন চালুর ফলে সময় অনেক কম লাগবে। শোনা যাচ্ছে আগামী ২৭ শে মার্চ এই রেলপথ ধরে যাত্রীবাহী ট্রেনের ট্রায়াল হবে। কিন্তু তা যেন শুধু ট্রায়ালেই থেমে না যায়।’’