দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : নরেন্দ্র মোদী কি দেখতে পাচ্ছেন, রায়গঞ্জে কী হচ্ছে?
করোনা রুখতে কাজে আসবে, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে এমন নানা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন অনেকেই। সমস্যা থেকে বেরোতে তাঁদের জন্য পুরস্কার জেতার সুযোগও করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। কোভিড-১৯ সলিউশন চ্যালেঞ্জ নামের এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কারের অর্থমূল্য ঘোষণা করা হয়েছে নগদ ১ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার নগদ ২৫ হাজার টাকা।
অথচ মেধা-প্রযুক্তি-ভাবনার ধারপাশ দিয়ে না হেঁটে কেন্দ্রের এই শাসকদলই আবার করোনা রুখতে বোতলবন্দি গোমূত্র নিয়ে নেমে পড়ল রাজপথে। গোমূত্র পানের কর্মসুচি পালন করল রায়গঞ্জ শহর বিজেপির নেতা নেত্রীরা। হল গোমাতার পুজোও। রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড় লাগোয়া গোশালায়। মঙ্গলবার।
এদিন বিজেপি নেতৃত্ব নিজেরা গোমূত্র পান করার পাশাপাশি অন্যদেরকেও করোনা প্রতিষধক হিসাবে গোমূত্র পান করার পরামর্শ দেন। রীতিমতো ধুমধাম করে ফুল-বেলপাতা-ফল-মিষ্টি দিয়ে পুজো হল গোমাতার। পুজোর পরেই প্রসাদ বিতরণ ও গোমূত্র সেবনের পালা। বিজেপির মহিলা মোর্চার রায়গঞ্জ টাউন সভাপতি অর্পিতা মিত্র বললেন, “আমরা বিশ্বাস করি গোমাতা পুজন ও গোমূত্র সেবনে এই রোগ ঠেকানো যাবে। প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী চললেই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই সবাইকে গোমূত্র পান করার পরামর্শ দিচ্ছি।”
বিজেপির রায়গঞ্জ উত্তর মণ্ডলের সভাপতি অভিজিৎ যোশী এক কদম এগিয়ে বললেন, “সরকারের নির্দেশ পালন ও চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধ খেতে আমরা নিষেধ করছি না। দুটোই চলুক পাশাপাশি।”
রায়গঞ্জ শহরের প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক শান্তুনু দাস চিকিৎসাশাস্ত্রের কোথাও করোনা রুখতে গোমূত্রের নিদান দেওয়া রয়েছে বলে শোনেননি। এসব দেখেশুনে তিনি বলছেন, “গোমূত্রে করোনা ঠেকানো গেলে আর চিন্তা কিসের?”