দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: তীব্র বিস্ফোরণে উড়ে গেল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদ। পুজের মুখে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল দুবরাজপুরে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে চাপানগরী গ্রামে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় গ্রামবাসীদের। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলেই জানা গেছে।
বাসিন্দারা জানান, করোনা রুখতে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই বন্ধ ছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভেঙে পড়ে স্বাস্থকেন্দ্রের ছাদ। ভেতরের সমস্ত দরজা জানলাও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। হেতমপুর পঞ্চায়েতের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। মধ্যরাতে এমন বিস্ফোরণের জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামের মানুষজন।
তীব্র আওয়াজে ঘুম ভাঙতেই বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। শুরু হয়ে যায় ছোটাছুটি। খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশবাহিনী। কী কারণে এমন বিস্ফোরণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি তরজা। বিজেপির দাবি, ভোটে সন্ত্রাস করতেই অস্ত্র মজুত করছে তৃণমূল। বিজেপির জেলা সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিধানসভার ভোট এসে গেল প্রায়। পরিকল্পিতভাবেই এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য এখন থেকেই বোমা মজুত করছে শাসকদলের কর্মীরা। সেই বোমাই ফেটে গিয়ে এমন কাণ্ড হল।"
তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি তথা ওই এলাকার নেতা মলয় মুখোপাধ্যায় বিজেপির তোলা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘এটা দুষ্কৃতকারীদের কাজ। বিজেপির সঙ্গে যোগসাজস করেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যাতে বোঝানো যায় যে পশ্চিমবঙ্গে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।"
বিস্ফোরণের ঘটনা এই জেলাতে প্রথম নয়। দুবরাজপুরের ঠিক পাশেই রয়েছে খয়রাশোল। সেখানেও এর আগে একাধিকবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।