দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: তিন বছর আগে পুলিশ আধিকারিক সুমন দাসকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে উলুবেড়িয়া আদালতের আইনজীবী মতিয়ার রহমান-সহ চারজনকে দশবছরের কারাদণ্ডের সাজা দিল হাওড়া আদালত। একইসঙ্গে ওই চারজনকে দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দু'বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত আরও আট জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং দুজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
২০১৮ সালের ৫ ই জানুয়ারি রাত এগারোটা নাগাদ ওয়ারেন্ট নিয়ে দুই অভিযুক্ত লিয়াকত মুন্সি ও মনিরুল মুন্সিকে গ্রেফতার করতে শ্যামপুর থানার বারগড়চুমুক গ্রামে হাজির হয় পুলিশের টিম। তৎকালীন ওসি সুমন দাসের নেতৃত্বে পুলিশ যখন দুজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে তখন উলুবেড়িয়া আদালতের আইনজীবী মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে তার দলবল হামলা চালায় পুলিশের ওপর। ছিনিয়ে নেওয়া হয় দুই অভিযুক্তকে। লাঠি এবং লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় শ্যামপুর থানার ওসি সুমন দাসকে। তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। দীর্ঘ সাতমাস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন সুমন দাস। সেদিনের ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গ্রেফতার করা হয়েছিল ঘটনায় জড়িত চোদ্দজনকে। ঘটনার তদন্তকারী অফিসার রাজা মুখার্জী সমস্ত তথ্য প্রমাণ নিয়ে চার্জশিট জমা দেন আদালতে।
সরকারি আইনজীবি সোমনাথ মুখার্জী জানান, এই মামলায় মোট পনেরোজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার হাওড়া আদালতের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শর্বাণী মল্লিক চট্টোপাধ্যায় আইনজীবী মুন্সি মতিয়ার রহমান সহ ১৪ জনকে সাজা শোনান।
তবে কোভিড পরিস্থিতিতে আসামিদের আজ আদালতে নিয়ে আসা হয়নি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের সাজা শোনানো হয়। ঘটনার দিন আক্রান্ত ওসি সুমন দাস আজ বলেন, ‘‘আমার উপর আক্রমণের এই ঘটনায় আমার উচ্চপদস্থ অফিসার এবং সরকার পক্ষের আইনজীবীরা যেভাবে লড়াই করেছেন তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। বিচার ব্যবস্থার জয় হয়েছে।