এমন অবস্থা কী করে হল স্মৃতি ইরানির! ন্যাপকিন-বিতর্কের জের চলছে এখনও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দড়ি দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা তাঁকে। শক্ত করে বাঁধা মুখও। চোখ প্রায় উল্টে গিয়েছে। এমনই অবস্থায় থাকা স্মৃতি ইরানির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল! আর সে ছবি পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজেই। কিন্তু এমনটা কেন করলেন স্মৃত
শেষ আপডেট: 25 October 2018 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দড়ি দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা তাঁকে। শক্ত করে বাঁধা মুখও। চোখ প্রায় উল্টে গিয়েছে। এমনই অবস্থায় থাকা স্মৃতি ইরানির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল! আর সে ছবি পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজেই। কিন্তু এমনটা কেন করলেন স্মৃতি?
জবাব মিলছে ইনস্টাগ্রামে স্মৃতির পোস্ট করা সে ছবির ক্যাপশনে চোখ রাখলে। তিনি লিখেছেন, "হাম বোলেগা তো বোলোগে কি বোলতা হ্যায়।" যার অর্থ, 'আমি মুখ খুললেই তোমরা বলবে, আমি কথা বলছি।' ১৯৭৪ সালে এই গানটি জনপ্রিয় হয়েছিল কিশোরকুমারের কণ্ঠে। সেই গানের লাইন এমন ছবির সঙ্গে ব্যবহার করতে দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না, ঠিক কোন বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে চাইছেন স্মৃতি। শবরীমালা নিয়ে তাঁর মন্তব্য দেশ জুড়ে বিতর্কের ঝড় বইয়ে দিয়েছিল। তার পরেও আত্মপক্ষ সমর্থন করে টুইট করেন স্মৃতি। আজ ফের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ইঙ্গিত করলেন, এ বিষয়ে আর কিছু না বলাই ভাল মনে করছেন তিনি।
মঙ্গলবার মুম্বইয়ের একটি কনফারেন্সে বক্তৃতা রাখার সময়ে স্মৃতি ইরানি শবরীমালা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, ”আপনি কি কখনও রক্তে ভেজা স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে বন্ধুর বাড়ি যান? তা হলে ভগবানের কাছে ওই অবস্থায় কেন যাবেন?” তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে আমার কিছু বলার নেই সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে। কিন্তু আমি মনে করি, পুজো করা আর মন্দির অপবিত্র করা এক নয়।" স্মৃতির এই মন্তব্য ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হন তিনি।
পরে টুইট করে জানিয়ে দেন, তাঁর বক্তব্যের একটি অংশকে বিতর্কের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এক জন হিন্দু নারী এবং জ়োরোস্ত্রিয়ান ধর্ম পালনকারী স্ত্রী হিসেবে তিনি কোনও ভাবেই নিজের বক্তব্য থেকে সরছেন না।
কেরলের শবরীমালা মন্দিরে বহু বছর ধরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ। যাতে কোনও মহিলাই ঋতুমতী অবস্থায় ঢুকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি কোনও মহিলাই সেখানে প্রবেশ করতে পারতেন না। বহু প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরে, সম্প্রতি শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে যে ঋতুমতী মহিলারাও মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু তার পরেও সমাধান হয়নি সমস্যার। একের পর এক মহিলাকে বাধা দেওয়া হয়েছে মন্দিরে ঢুকতে। হয়েছে ধস্তাধস্তি। মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের। এমনকী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মন্দির।
এই পরিস্থিতিতে এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে বিতর্ক এক অন্য মোড় নেয়। এ বার সেই বিতর্কের উত্তরেই স্মৃতি পোস্ট করলেন এমন এক আপাত-মজার ছবি। কয়েক দশক আগের টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘কিঁউ কি…শাস ভি কভি বহু থি’-র এই ছবিটি পোস্টের সঙ্গে সঙ্গেই তা আগের মন্তব্যের মতোই ভাইরাল হয়।
তাঁর রসবোধের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। আত্মরক্ষার জন্য যে পথ তিনি বেছে নিয়েছেন, সেটাকে বাহবাও দিয়েছেন নেটিজেনরা। তবে আত্মরক্ষার তাগিদে যে আত্মসমর্পণেরও পথ তিনি ধরেছেন, সে কথাও উঠে এসেছে মন্তব্যে।
দেখে নিন, স্মৃতির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট।
https://www.instagram.com/p/BpWAr6vH6pX/?taken-by=smritiiraniofficial