দ্য ওযাল ব্যুরো: সাঁওতালি ভাষার বিশেষ লিপি অলচিকিকে আরও গুরুত্ব দিতে এবং রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও এই হরফ ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে জানিয়েছেন, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৪৫টি স্কুলে প্রতিটি স্কুলে দু'জন করে সাঁওতালি ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। মোট ২৯০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা সাঁওতালি ভাষার জন্য নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
পরিবহণমন্ত্রী আরও বলেন, অতি দ্রুত এই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে শিক্ষা দফতরের তত্ত্বাবধানে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই বহু দিন আগের প্রস্তাবিত এই বিষয়টি সাফল্য পেল। রাজ্যের সাঁওতালি ভাষাভাষির ছাত্রছাত্রীরা এতে বিশেষ সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বহু বছর ধরেই রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অলচিকি হরফে লেখাপড়া চালু করার দাবি জানিয়ে আসছে অল ইন্ডিয়া সাঁওতালি এডুকেশন কাউন্সিল। তথ্য বলছে, এখন বিশ্বের সাঁওতালভাষী মানুষের মধ্যে ভারতে রয়েছেন প্রায় ৬৫ লক্ষ জন, বাংলাদেশে ২ লক্ষ ২৫ হাজার জন এবং নেপালে ৫০ হাজার জন। বেশির ভাগ সাঁওতালি ভাষাভাষী মানুষ ভারতের ঝাড়খণ্ড, আসাম, বিহার, ওড়িশা, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে বাস করে। এই সাঁওতালি ভাষার নিজস্ব লিপির নামই অলচিকি।
এই লিপিতে পঠন-পাঠন করার দাবি বহু দিন ধরেই বহু স্তরে উঠেছে। এমনও জানা গিয়েছে, নিজস্ব ভাষা ও লিপিতে পঠনপাঠন করতে না পারার জন্য অনেকেই স্কুলছুট হচ্ছে। এই সমস্যার কথা এর আগেও বহু বার উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়েছেন, তিনি সমস্ত ভাষা ও লিপিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে।
কিন্তু এ কথা জানালেও, এত দিন আলাদা করে সাঁওতালি ভাষা বা অলচিকি হরফ নিয়ে কোনও উদ্যোগ সরকারি ভাবে নেওয়া হয়নি। এবার সেই উদ্যোগই নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল। সিলমোহর দেওয়া হল প্রথামিক শিক্ষায় সাঁওতালি ভাষার হরফ অলচিকি ব্যবহারে।
সদ্য রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের দায়িত্ব পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বৈঠক শেষে আরও বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী সংগঠনকে ঢেলে সাজা হবে। যদি কেউ সংগঠন ছাড়তে চায় তা হলে চলে যেতে পারে। আমি নিজে প্রতিটা জেলায় জেলায় ঘুরে দেখব কারা কারা সংগঠনের কাজ করছে। আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন এই সংগঠনকে কো-অর্ডিনেশন কমিটির থেকেও ভালো সংগঠন হিসেবে তৈরি করে নেব। সংগঠনের কর্মীদের যে দীর্ঘ দিনের দাবি রয়েছে সেটা মেটানোর উদ্যোগ আমি নেবই।"