
শেষ আপডেট: 13 May 2023 13:43
শুক্রবার প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly)। একসঙ্গে এতজনের চাকরি এর আগে বাংলায় কখনও বাতিল হয়নি বলে মত পর্যবেক্ষকদের। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যেতে পারে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (Primary Education Board)। অতীতেও দেখা গেছে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের চাকরি বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেইসঙ্গে ২০১৪ সালের টেটে (TET 2014) নিয়োগ কত বাকি রয়েছে তাও রাজ্যের থেকে জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো এবার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। ২০১৪ সালে টেট দিয়েছিলেন লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থী। তার ভিত্তিতে দুই ধাপে নিয়োগ হয়। ২০১৬ সালে প্রথম ধাপে সাড়ে ৪২ হাজার জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। আর বাকি শূন্যপদের জন্য ২০২১ সালে আরও সাড়ে ১৬ হাজার নিয়োগের কথা বলে পর্ষদ। সেইমতো নিয়োগ শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে পর্ষদ সাড়ে ১৬ হাজার নিয়োগ করেনি!
সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়টি তোলা হয়। তারপরই শীর্ষ আদালত, রাজ্যের থেকে জানতে চায় এখনও পর্যন্ত কতজনের নিয়োগ বাকি রয়েছে। সেই তথ্য এবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।
সূত্রের খবর,সাড়ে ১৬ হাজারের মধ্যে ১৪ হাজারের সামান্য বেশি নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বাকি ২ হাজার নিয়োগ হয়নি কেন? অনেকের চাকরি বাতিল হয়েছে, অনেকে চাকরি পেয়েও জয়েন করেননি—এইসব কারণেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি বলে খবর পর্ষদ সূত্রে। এবার পর্ষদ, জেলা স্কুল পরিদর্শক বা ডিআইদের কাছে এইসব বিষয়েই বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। পর্ষদ আরও বলেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই তথ্য বোর্ডের কাছে পাঠাতে হবে ডিআইদের।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অনিয়মের অভিযোগে ৩৬ হাজার যে চাকরি বাতিল হয়েছে, তেমন পরিস্থিতি যাতে ভবিষ্যতে আর না নয় তাই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। যত দ্রুত সম্ভব সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো তথ্য জমা দিতে চায় পর্ষদ।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি গেছে! পর্ষদ কী ভাবছে, জানতে চান চাকরিহারা শিক্ষকরা