শেষ আপডেট: 3 February 2020 05:54
স্মৃতিকণার দিদি সোমা দাস এসে প্রতিবাদ করলে তাঁকেও হাত-পা বেঁধে নিয়ে গিয়ে ওই একই জায়গায় আটকে রাখা হয়। এরপরেই তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও মাকেও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্মৃতিকণা ও তাঁর দিদি সোমাকে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান জেলা বিজেপি সভাপতি বিনয় বর্মন ওহ অন্য বিজেপি নেতা-কর্মীরা। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সোমাকে ওই দিনই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও রবিবার স্মৃতিকণাকে ছুটি দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল থেকে ফিরেই গঙ্গারামপুর থানায় গিয়ে স্মৃতিকণা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পাঁচজন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীর নামে। এর মধ্যে নাম রয়েছে নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূলনেতা অমল সরকারের।
আক্রান্ত স্মৃতিকণা দাস বলেন, “রাস্তা করার জন্য যে আমাদের নিজস্ব জায়গা নেওয়া হবে সে ব্যাপারে ওরা কিছু জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। জোর করে, ইচ্ছে মতো জমি-জায়গা দখল করে রাস্তা তৈরি করছে। আমি ১২ ফুট চওড়া জায়গা দিতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু ওরা বলপূর্বক ২৪ ফুট করে জায়গা নিয়ে রাস্তা করছে। প্রতিবাদ করায় মধ্যযুগীয় বর্বতা দেখিয়ে আমার ও দিদির হাত পা বেঁধে মারধর করে। একজন উপপ্রধান হয়ে কী ভাবে এমনটা করতে পারল! আমি উপপ্রধান-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি পুলিশে কিন্তু প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে উল্টে আমাকে শাসানি দিচ্ছে। তবুও পুলিশের উপরে ভরসা রয়েছে।”
বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যেখানে নারীদের সুরক্ষার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত নারীরা। মধ্যযুগে এই রকম বর্বরতা ঘটত তা ইতিহাসে পড়েছি কিন্তু এখনকার সমাজে, আবার একজন মহিলার সঙ্গে এমন ঘটনাকে নৃশংসতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। তৃণমূলের মতো রাজনৈতিক দলের লোকেদের পক্ষেই এটা সম্ভব। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন আমি পুলিশ-প্রশাসনের কাছে জানাব।
তৃণমূল জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ওই উপপ্রধানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কি হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুন্ডু বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।