একটিমাত্র দেশলাই কাঠি দিয়ে আইসিসি বিশ্বকাপের রেপ্লিকা, রেকর্ড গড়লেন বেলদার শিক্ষক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজোড়া করোনা মহামারী নিয়ে একের পর এক দুঃসংবাদের মধ্যেও রাজ্যের কাছে খুশির খবর। 'ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস'-এ স্থান পেল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার খাকুড়দার সুমন মান্নার কীর্তি। আইসিসি বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম রেপ্লিকা তৈরি
শেষ আপডেট: 4 May 2020 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজোড়া করোনা মহামারী নিয়ে একের পর এক দুঃসংবাদের মধ্যেও রাজ্যের কাছে খুশির খবর। 'ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস'-এ স্থান পেল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার খাকুড়দার সুমন মান্নার কীর্তি। আইসিসি বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম রেপ্লিকা তৈরি করে জাতীয় রেকর্ড সংস্থায় জায়গা করে নিয়েছে তাঁর কাজ। কেবলমাত্র একটি দেশলাই কাঠি দিয়ে তিনি বানিয়েছেন ওই রেপ্লিকা যার উচ্চতা মাত্র ১২ মিলিমিটার। মাত্র ৫০ মিনিটে।
পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও সুমনের নেশা সৃজনশীল সৃষ্টিকর্মে। সেই নেশার টানে সব সময়ই চেষ্টা ছিল এমন কিছু করার যা হবে অন্য সব কিছুর চেয়ে আলাদা। প্রাথমিক ভাবে চিত্রকর হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে মনের মধ্যে আলাদা কিছু করার তাগিদ জিইয়ে রেখেছিলেন তিনি। সে দিক থেকে প্রথম সাফল্য আসে কমেডিয়ান হিসেবে। একটি জনপ্রিয় চ্যানেলের স্ট্যান্ড আপ কমেডির রিয়েলিটি শোয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে যোগ দিয়ে জেলা স্তরে পরিচিতি আসে তাঁর। লেখালেখির পারদর্শিতা কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় চ্যানেলে স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের কাজ করেছেন। তবে মনের মধ্যে একটি সুপ্ত ইচ্ছা ছিল। শুধু জেলা নয় রাজ্য বা দেশের মুখ উজ্জ্বল করার মতো কিছু একটা করতে হবে। এবার সেই প্রচেষ্টারই সাফল্য।

নেহাতই খেয়ালের বশে একদিন একটি মাত্র দেশলাই কাঠি দিয়ে বানিয়ে ফেললেন ক্রিকেট বিশ্বকাপের রেপ্লিকা। তারপর তা ই-মেলে জানান এশিয়ান বুক অফ রেকর্ডসের আওতাভুক্ত ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসকে (আইবিআর)। কয়েকদিনের মধ্যেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ই-মেল মারফত গাইড লাইন দিয়ে জানানো হয় কী ভাবে কাজটি করে দেখাতে হবে। সেই গাইড লাইন মেনে ৩ মার্চ ক্যামেরার সামনে ৫০ মিনিটে একটি মাত্র দেশলাই কাঠি দিয়ে খালি চোখে ফের একটি রেপ্লিকা বানান তিনি। সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে তৈরি রেপ্লিকাটির উচ্চতা মেপে দেখা যায় ১২ মিলিমিটার বা ০.৪৭ ইঞ্চি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্য নথিও তিনি পাঠান নিয়ম মেনে। রেকর্ড অন্তর্ভুক্তকারী সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে ৬ মার্চ ই-মেল মারফত জানিয়ে দেয় যে সুমন মান্নার কাজটি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে। তার স্বীকৃতি স্বরূপ সংস্থা থেকে একটি মেডেল, একটি স্মারক ও একটি শংসাপত্র ২৯ এপ্রিল তাঁর কাছে এসে পৌঁছেছে।

ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে পশ্চিমবঙ্গের নাম তুলতে পেরে সুমন খুশি। তিনি জানান তাঁর মা তাঁকে এই কাজে উৎসাহ জুগিয়েছেন। আরও দুটি বিষয়ে তিনি জাতীয় রেকর্ডের জন্য কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য গিনেস বুক অব রেকর্ডসেও নাম তোলা।