দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতাসে হাজির শীতের আমেজ। এমন সময়ে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ কফি পেলে সন্ধেবেলাটা জমে যায়। আর তা যদি পাওয়া যায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, তাহলে তো কথাই নেই। এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েই হাজির হয়েছে বোলপুরের পঞ্চব্যঞ্জন রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে। তবে কাস্টমারদের কাছে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের একটাই আবেদন, ফ্রি তে কফি খেতে হলে বই পড়তে হবে। আপনার সামনেই সাজানো থাকবে নানা লেখকের বইয়ের সম্ভার। পছন্দমতো বেছে নিয়ে পড়তে শুরু করলেই সামনে হাজির হবে এক পেয়ালা ধূমায়িত কফি।
বোলপুরের ওই রেস্তোরাঁর মালিক তাপস মল্লিকের কথায়, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের অত্যাধুনিক যুগে বই কী জিনিস অনেকেই তা ভুলতে বসেছেন। জেন ওয়াইয়ের অনেকেরই অবশ্য বই পড়ার বেশ নেশা আছে। কিন্তু সেসব পড়া হয়ে যায় স্মার্টফোনের চওড়া স্ক্রিনেই। আর বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই আজকাল বই পড়তেই চায় না। এমনকি বই কেনার চল এখন অনেক কমে গিয়েছে। একসময় যেসব গ্রন্থাগারগুলিতে বই নেওয়ার জন্য কার্ড করার লাইন পরে যেত, সেগুলিই এখন ধুঁকছে।
বইয়ের প্রতি ক্রমশ ঝোঁক কমছে সাধারণের। তাই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতেই বোলপুরের পঞ্চব্যঞ্জন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যাফের ভিতরেই বানানো হয়েছে ছোটোখাটো একটা লাইব্রেরি। রবিবার তার উদ্বোধন করেন বিশ্বভারতীর বাংলাদেশ ভবনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। হাজির ছিলেন সাহিত্যিক সুশোভন অধিকারীও। কিশোর সাহিত্য থেকে শুরু করে উপন্যাস-কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ-জীবনী এমনকি রাজনীতি বিষয়ক বইও থাকবে ক্যাফের লাইব্রেরিতে। রেস্তোরাঁর এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বোলপুরের বাসিন্দারাও। যে উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া তা অনেকাংশেই সফল হবে বলে মনে করছেন ক্যাফের মালিক তাপসবাবুও।