দ্য ওয়াল ব্যুরো: কন্টেনমেন্ট জোনে খাবার, জল ও অন্যান্য জিনিস না পেয়ে এবার বিক্ষোভে নামলেন হাওড়ার আমতা ১ নম্বর ব্লকের নাপিতপাড়ার বাসিন্দারা। কনটেনমেন্ট জোনের ব্যারিকেড ভেঙে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের অফিসের দরজায়।
ব্লক অফিস থেকে বড় জোর এক কিলোমিটার দূরে আমতার নাপিতপাড়া। এখানে মোটামুটি পঞ্চাশটি পরিবারের বাস। তার মধ্যে কমপক্ষে তিরিশ জন করোনায় আক্রান্ত বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এত জন আক্রান্ত শুনে লোকজন এই পাড়ার ধারকাছ মাড়াচ্ছেন না। এই পাড়ার লোকজনকেও বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাতেই মুশকিলে পড়েছেন এলাকার লোকজন।
পাড়ার একটি অংশে করোনা ছড়ালেও অন্য অংশে কেউ আক্রান্ত নন বলে এলাকার লোকজনের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, আক্রান্ত এলাকার পাশাপাশি তাঁদের এলাকাও বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনদিন ধরে এলাকায় কারও ঘরে জল নেই। কেউ এখানে খাবারও দিতে চাইছেন না। প্রশাসনকে ফোন করলেও কোনও লাভ হচ্ছে না। এই এলাকা নিয়ে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই – এই সব অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকার বেশ কয়েক জন বাসিন্দা ঘর থেকে বেরিয়ে প্রথমে কনটেনমেন্ট জোনের ব্যারিকেড টপকে যান। সেখান থেকে তাঁরা সোজা বিডিও অফিসের দরজায় এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এই ঘটনায় আশপাশের এলাকার লোকজন করোনা ছড়ানোর ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্বভাবতই তাঁরা পালিয়ে যান।
বিডিও অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের পাশের পাড়ায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। আমাদের পাড়ায় সকলের করোনা নেগেটিভ। তা সত্ত্বেও আমরা সরকার থেকে কোনও রকম সাহায্য পাচ্ছি না। গ্যাস, জল, বাজার – কিছুই পাচ্ছি না। ঠিকমতো পরিষেবা না পাওয়ার জন্যই আমরা বিডিও অফিসে এসেছি।”
এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিভিক ভলান্টিয়ারদের আচরণ নিয়েও। বাজার করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নামে তাঁরা অসাধুতার অভিযোগ তুলেছেন।
আমতা এক নম্বর ব্লকের বিডিও লোকমান সরকার বলেন, “আমি বিকেলে ওই এলাকায় যাব। যে জায়গার মানুষ করোনায় আক্রান্ত সেটুকু বন্ধ রেখে বাকিটা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। ওই এলাকার মানুষের ব্যবহারের জন্য জলের ট্যাঙ্ক দেওয়া হবে। যেদিকে কোনও আক্রান্ত নেই সেদিকে রাস্তা খুলে দেওয়া হবে।”