দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক দূরত্বের বিধি শিকেয় তুলেই বাড়িতে ফিরছেন ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা। অন্তত হাওড়া স্টেশনে গিয়ে সেই দৃশ্যই দেখা গেল। ট্রেনে করে ফেরা শ্রমিকরা কোনও রকম সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে সপরিবারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন বাসের লাইনে। সেখানে শিশুরাও রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মুম্বই থেকে হাওড়ায় এসে পৌঁছয় শ্রমিক স্পেশ্যাল। ট্রেনের যাত্রী নয় নয় করে অন্তত বারোশো। হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে ট্রেন থামতেই স্বাস্থ্য দফতরের ঘোষণা করা সামাজিক দূরত্বের বিধি শিকেয় তুলে সকলে ছুটতে শুরু করলেন।
সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখতে যে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যাবে সে কথা জানেন সকলে। ট্রেনে ওঠার আগে প্রত্যেককে সামাজিক দূরত্বের পাঠ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা থেকে কেউ যে শিক্ষা নেননি তা স্পষ্ট হয়ে যায় সেই ছবি দেখলেই।
হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়েও গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকরা। তাঁরা অপেক্ষা করছেন কতক্ষণে ঘোষণা করা হবে তাঁদের বাসের কথা। ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যাচ্ছে দৌড়ঝাঁপ। সকলেই চাইছেন তাড়াতাড়ি বাসে উঠতে। সবার আগে উঠে পছন্দসই আসন দখল করতে। শ্যামল বেরা নামে এক শ্রমিক বলেন, “জানি সবই। বাড়ি ফেরার তাড়া আছে তাই ধৈর্য ধরতে পারছি না।”
বারোশো শ্রমিককে সামাজিক দূরত্ব-বিধি মেনে দাঁড় করানোর মতো লোকবল পুলিশের নেই। তারা মাইকে ঘোষণা করছে কোন বাসে কাকে উঠতে হবে। পুলিশের এক কর্মী বললেন, “আমরা মাইকে ঘোষণা করছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা প্রত্যেককেই বলা হচ্ছে।”
কয়েক দিন আগে মহারাষ্ট্র থেকে আসা একটি শ্রমিক স্পেশ্যালের যাত্রী ভিডিও করে দেখিয়েছিলেন কী ভাবে ঘেঁষা-ঘেষি করে তাঁরা ফিরছেন। তখন আঙুন তোলা হয়েছিল রেলের দিকে। এদিন দেখা গেল যাত্রীরা নিজেরাও উদাসীন। মহামারীর আকার নেওয়া করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে তখন তাঁরা সব জেনেও তা মানছেন না।