দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকাল থেকেই নেতাজি ইনডোরে ভিড় করতে শুরু করেছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। দিদি বৈঠক ডেকেছেন। প্রশান্ত কিশোরের অফিস বার-কোড ওয়ালা কার্ড দিয়েছে। সব মিলিয়ে সাজো সাজো রব ছিল হাইকোর্টের উল্টোদিকে। আর তৃণমূলের কর্মসূচি মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতাদের ছবি, জোড়াফুল ওয়ালা চাবির রিং বিক্রি হয় হইহই করে। এদিন দেখা গেল সেই ছবি বিক্রিতে দিদির পরেই জায়গা করে নিয়েছেন পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শ্যামবাজার থেকে ছবি বিক্রি করতে এসেছিলেন অরবিন্দ সাউ। তৃণমূলের প্রায় সব কর্মসূচিতেই এই ভদ্রলোককে নানান পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায়। তিনি নিজে মুখেই জানালেন, দিদির ছবি বিক্রি হয়েছে দেদার। সেই সঙ্গে শুভেন্দু। শাসকদলের আর কোনও নেতার ছবি কিনতে অবশ্য দেখা যায়নি জেলা থেকে আসা পুরসভা এলাকার নেতা-কর্মীদের।
যদিও এদিন নেতাজি ইনডোরে ছিলেন না নন্দীগ্রামের বিধায়ক। আগামী কাল মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মালদায়। মমতা যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তাই শুভেন্দু পৌঁছে যান সেখানে।
তৃণমূলের রাজনীতিতে কর্মীদের সমস্ত আবেগের কেন্দ্রে মমতাই। যদিও পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলেন, মমতার পরে যদি তৃণমূলের কোন ও নেতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থাকে, তাহলে তিনি শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের বক্তব্য, এর প্রধান কারণ, শুভেন্দুকে কেউ হাতে করে এই জায়গায় পৌঁছে দেননি। নন্দীগ্রামের আন্দোলন, জঙ্গলমহলে সিপিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কা৬তা বেছানো পথ পেরিয়েই তিনি সানগসদ হয়েছিলেন। তারপর ২০১৬ সাল থেকে মমতার মন্ত্রিসভায়। লোকসভা ভোটের পর বেড়েছে সাংগঠনিক দায়িত্বও। গোটা জঙ্গলমহলের পর্যবেক্ষক এখন তিনি। অনেকের মতে, এসব কারণেই শুভেন্দুর ব্যাপারে কর্মীদের মধ্যে একতা আবেগ রয়েছে। ছবি বিক্রি তারই প্রতিফলন।