দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুলিশের কমব্যাট ব্যাটেলিয়নের ডিসি নভেন্দ্র সিং-সহ ১৩ পুলিশকর্মীকে বদলির নির্দেশ জারি করল নবান্ন। মঙ্গলবার রাতে রাজ্য সরকারের তরফে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে কমব্যাট ব্যাটেলিয়নের ডিজিকে পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের ওয়ারলেস বিভাগে। আর ১৩ জন কমব্যাট ফোর্সের কর্মী তথা কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের আবাসিককে বদলি করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায়। তাঁদের বদলির নির্দেশ দিয়েছেন, ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)।
জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুর দুয়ারে বদলি করা হয়েছে ১৩ জনকে। এই নির্দেশিকায় সাধারণ পুলিশকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে খবর। গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, ন্যূনতম সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েই সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে পুলিশকর্মীদের। যদিও লালবাজারের কর্তারা বলছেন, এটা রুটিন বদলি।
গত ১৯ মে রাতের ঘটনা। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পরও সাধারণ পুলিশকর্মীদের কোনও নিরাপত্তা নেই-- এই অভিযোগ তুলে পিটিএসের সামনের রাস্তায় অবরোধ শুরু করেন কমব্যাট ফোর্সের কর্মীরা। ডিজি পৌঁছলে তাঁকেও হেনস্থার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, পরের দিন অর্থাৎ উমফান আসার সকালে বিক্ষোভ শান্ত করতে বাড়ি থেকে নবান্ন যাওয়ার পথে পিটিএসে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই, জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই সময়ে অনেকেই বলেছিলেন, শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীতে যদি এমন বিক্ষোভ হয় তাহলে তা সংক্রমিত হতে পারে। তারপর দেখা গিয়েছিল সল্টলেকেও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা।
বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, এই রাজ্য সরকার যে প্রতিহিংসাপরায়ন সেটা অনেকদিন ধরেই আমরা বলছি। পুলিশের এই বদলি তারই উদাহরণ। এই সরকার কোনও বিরুদ্ধ স্বর শুনতে চায় না। ন্যায্য দাবি করলেই শাস্তি।