Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
এখনই সুরাহা নেই! রান্নার গ্যাসের আকাল চলতে পারে আরও ৪ বছর, দুশ্চিন্তা বাড়বে ভারতের আমজনতার?লোকসভার আসন বেড়ে হচ্ছে ৮৫০, কতটা লাভ বাংলার? সবচেয়ে বেশি ও কম সিট বাড়ছে কোন রাজ্যে?নববর্ষে কলকাতা সফরে আইওসি-র শীর্ষ কর্তা, এলপিজির বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে হাজির গ্যাসের দোকানেও৮ হাজার লিটার গঙ্গাজল, গরু আর রুপোর কলসী! ফিরে দেখা জয়পুরের মহারাজার আজব লন্ডন-সফরগুয়ার্দিওলা-পরবর্তী ফুটবলের নমুনা মেলে ধরেছে কোম্পানি আমলের বায়ার্ন! আজ সামনে রিয়ালআশা ভোঁসলের শেষযাত্রায় যাননি শাহরুখ-সলমন! বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সামনে এল আসল কারণভোটের মুখে হুগলিতে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি! ক্ষুব্ধ স্মৃতি ইরানি মাঝপথেই ছাড়লেন শোভাযাত্রা‘ইলিশ এনে দিন, আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি’, তৃণমূলের মাছ-মাংস বন্ধের অভিযোগের পাল্টা স্মৃতির ‘আশা করি আগের বছরের মতো হবে না’, নববর্ষে আবারও আশায় বুক বাঁধলেন শাশ্বতআমেরিকার অবরোধ তুলতে বিকল্প পথে হাঁটছে ইরান, হরমুজ ছাড়া অন্য রাস্তায় জাহাজ চালানোর চেষ্টা?

রফতানি করতে না পেরে দুধ নর্দমায়, মাথায় হাত বসিরহাটের ব‍্যবসায়ীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় দিশাহারা অবস্থা বসিরহাট মহকুমার দুধ ব‍্যবসায়ীদের। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তার ফলে দিনে মাত্র চার ঘণ্টার জন‍্য খোলা হচ্ছে মিষ্টির দোকান। অধিকাংশ মিষ্টির দোকান অ

রফতানি করতে না পেরে দুধ নর্দমায়, মাথায় হাত বসিরহাটের ব‍্যবসায়ীদের

শেষ আপডেট: 15 April 2020 07:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় দিশাহারা অবস্থা বসিরহাট মহকুমার দুধ ব‍্যবসায়ীদের। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তার ফলে দিনে মাত্র চার ঘণ্টার জন‍্য খোলা হচ্ছে মিষ্টির দোকান। অধিকাংশ মিষ্টির দোকান অবশ্য বন্ধই থাকছে। তার ফলে মাথায় হাত উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া, মিনাখাঁ, হাসনাবাদ-সহ বিভিন্ন ব্লকের দুধ ব‍্যবসায়ীদের। প্রতিদিন লিটার লিটার দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে নর্দমায়। শুধুমাত্র হাড়োয়া ব্লকের লাউগাছি গ্রামের ঘোষপাড়াতেই ৭৫টি পরিবারের অন্তত ৬০০ জন দুধ ব‍্যবসার সঙ্গে জড়িত। বছরের অন‍্য সময়ে সকাল ও বিকাল মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার লিটার দুধ সরবরাহ করা হত বিভিন্ন জায়গায়। গরু ও মোষ মিলিয়ে নিদেন পক্ষে ৪০০টি গবাদি পশু পালন করা হয় এই গ্রামে। ব্যাঙ্ক থেকে কৃষিঋণ নিয়েছেন অনেকে গরু কিনেছেন। প্রতিটি গরুর খাওয়া বাবদ খরচ হয় ৪০০ টাকা। একুশ দিন ধরে দুধ রফতানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দুধ নষ্ট হচ্ছে। আমুল, মেট্রো ডেয়ারি, রেড কাউ-এর মতো বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আগের মতো প্রতিদিন দুধ কিনছে না। সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়েছেন দুগ্ধ ব‍্যবসায়ীরা। এই এলাকা থেকে বসিরহাট, বারাসত, যাদবপুর, ঘটকপুকুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় দুধ বিক্রি করতে যেতেন ব্যবসায়ীরা। এখন তাঁরা ওইসব জায়গায় যেতে পারছেন না ট্রেন বন্ধ থাকায়। অনেকে আবার মনে করছেন যে গাড়ি ভাড়া করে দুধ নিয়ে যেতে গেলে পুলিশ হয়রান করতে পারে। দোকানও বন্ধ থাকতে পারে। দোকান বন্ধ রাখার প্রধান কারণ হল গরম। বৈশাখের গরমে দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত কত জন মিষ্টি কিনতে বেরবেন তাতে সন্দেহ রয়েছে। তাই মিষ্টির দোকানগুলো খুলছে না। এই কারণে দুগ্ধ-জাত মিষ্টি তৈরি করা বন্ধই করে দিয়েছে বসিরহাট, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু ছোট বড় মিষ্টির দোকান। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বসিরহাট মহকুমার খাটালগুলির উপরে। লকডাউনের মধ্যেই বেড়েছে গবাদি পশুর খাবাার হিসাবে দরকারি খড়, ভুষি, ছোলার খোলা প্রভৃতির দাম। লকডাউনের আগে ৫০ কেজি ভুষির দাম ছিল ১১০০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৪০০ টাকা হয়েছে। ছোলার খোলার দাম ছিল কেজি প্রতি ২৬ টাকা, তা বেড়ে হয়েছে ৩২ টাকা। মোষের দুধ এক লিটারের দাম ৬০ টাকা ও গরুর দুধ লিটার প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি করেন দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা কিন্তু ক্রেতার অভাবে সেই দুধ যথাক্রমে ৩০ ও ২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ‍্য হচ্ছেন গোপালকরা। প্রতিদিন একটি গবাদি পশুর লালন পালনের জন্য বিপুল খরচ পড়ে। দুধ ও ছানা বিক্রি করে গোপালন ও সংসার প্রতিপালন করেন ব্যবসায়ীরা। এখন দুয়ের কোনওটিরই বিক্রি নেই। তাঁদের দাবি, মাদার ডেয়ারি ও রেড কাউ-সহ বিভিন্ন সংস্থা যাতে এই সময় তাঁদের কাছ থেকে দুধ কেনে তার ব্যবস্থা করে দিক সরকার। নচেৎ সরসার চালাতে তো পারবেনই না উল্টে গবাদি পশুগুলোও মরে যাবে। মিনাখাঁ ব্লকের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের এক আধিকারিক জানান যে এ ব্যাপারে তাঁরা সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। যা বলার বিডিও বলবেন। তবে বিডিও ফোন ধরেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিনাখাঁরই এক আধিকারিক বলেন, “ত্রাণ আমরা পৌঁছে দিতে পারি কিন্তু দুধ বিক্রির কোনও এক্তিয়ার আমাদের নেই। কোনও নির্দিষ্ট সংস্থাকে আমরা দুধ কেনার কথা বলতেও পারি না। গ্রামে প্রত্যেকের বাড়িতেই গরু আছে। শুনেছি যে দশ টাকা কিলো দুধ বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে চাষিরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গরুগুলোর দুধ সাত দিন না দুইলেই দুধ দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।” পশুদের খাবার দেওয়ার ব্যাপারে সরকারি কোনও নির্দেশিকা এখনও ব্লক স্তরে আসেনি। সমবায় থেকে সাহায্য করছে তাদের নথিভুক্ত পশুপালকদের। তাই যাঁরা সমবায়ের মধ্যে নেই তাঁরা এখন সত্যিই সঙ্কটে রয়েছেন বলে মেনে নিয়েছেন ওই আধিকারিক।

```