দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার ইটাহারের সভায় দাঁড়িয়ে বালুরঘাটের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে এনেছিলেন নাট্যকর্মীর দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ। বলেছিলেন, ষোলর বিধানসভা ভোটের সময় নিজের লোকসভা কেন্দ্রে বড় অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল অর্পিতার। বাঁচার কথা ছিল না। তারপর আস্তে আস্তে ক্রাচ নিয়ে হেঁটে হেঁটে এখন দাঁড়াতে পেরেছে। শুক্রবার বালুরঘাটে নির্বাচনী প্রচারে ফের সেই দুর্ঘটনার প্রসঙ্গই তুলে আনলেন মমতা। বললেন, “ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত অ্যাকসিডেন্টে কুচি কুচি হয়ে পুরো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে গিয়েছিল। খুব কষ্ট করে জীবন বাঁচিয়েছে।”
২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার তৃতীয় দফার ভোটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এই বালুরঘাট। প্রার্থী ঘোষণার আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূল কর্মীরা দাবি তুলতে শুরু করে দিয়েছিলেন যে, বালুরঘাটে প্রার্থী বদল চাই-ই চাই। কারণ, দলের একটা বড় অংশের অভিযোগ ছিল, বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে লোকসভা এলাকায় প্রায় দেখাই যায়নি গত পাঁচ বছরে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বারও সেখানে টিকিট দিয়েছেন নাট্যকর্মী অর্পিতাকেই। শুক্রবার শেষ বেলার প্রচারে বালুরঘাটের জনসভা থেকে মমতা ব্যাখ্যা দিলেন, কেন সাংসদ নিজের কেন্দ্রে বেশি আসতে পারেননি।
মমতা বলেন, “অর্পিতার নামে কেউ কেউ উল্টোপাল্টা বলে বেড়াচ্ছে। ভুল বুঝবেন না। এই বালুরঘাটে কাজ করতে গিয়ে ওর যে অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল, মেয়েটা মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে এসেছে। এক বছর হাসপাতালে ছিল। ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত অ্যাকসিডেন্টে কুচি কুচি হয়ে পুরো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে গিয়েছিল। খুব কষ্ট করে জীবন বাঁচিয়েছে।” এর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ও একজন প্রসিদ্ধ নাট্যকর্মী। শুধু আমার কথায় এখানে ভোটে দাঁড়িয়েছে। ওকে যা করতে বলা হয়, তাই করে। আর শুধু আমার সঙ্গে ঝগড়া করে। কেন করে? শুধু আমাকে বলে বালুরঘাটে রবীন্দ্র কেন্দ্রটা করে দাও, উৎকর্ষ কেন্দ্রটা করে দাও, ইটাহারে এটা করে দাও, তপনে এটা করে দাও। আমি চাই আমার সঙ্গে ঝগড়া করুক। কাজের জন্য যদি কেউ আমার সঙ্গে ঝগড়া করে, আমি তাকে খুব ভালোবাসি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা জানেন বালুরঘাটের মানুষের মধ্যে অর্পিতাকে নিয়ে একটা অসন্তোষ রয়েছে। ভোট ঘোষণার আগেই বালুরঘাটের তৃণমূলকর্মীরা দাবি তুলে দিয়েছিলেন অর্পিতার বদলে প্রার্থী করতে হবে জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে। কিন্তু নেত্রী সে কথা শোনেননি। ভোটের ঠিক আগে তাতেই মলম দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে সহানুভূতির কৌশলও বাদ রাখেননি তিনি। নিজের কেন্দ্রে না আসতে পারলেও বালুরঘাটের কাজ নিয়ে যে অর্পিতা সক্রিয় ছিলেন, তাও জানাতে এই প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
যদিও পাঁচ বছরে বালুরঘাটে অর্পিতার কম হাজিরা নিয়ে মমতার এই সাফাইকে ‘প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে জেলা বিজেপি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক বিজেপি নেতার কথায়, “মমতা বুঝতে পেরে গিয়েছেন ওঁর প্রার্থী হারছেন। তাই এখন অ্যাকসিডেন্টের কথা বলে সহানুভূতি কুড়োচ্ছেন। কিন্তু বালুরঘাটের মানুষ দেখেছেন, কলকাতায় নাচা-গানা সব করেছেন কিন্তু এলাকায় আসেননি। ভোটেই মমতাকে জবাব দেবেন বালুরঘাটের মানুষ।”
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-mamata-banerjee-speaks-up-about-abhisheks-wife/