দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর জীবনযাপনে কোনওকালেই আড়ম্বর নেই। ওই সুতির শাড়ি, হাওয়াই চটি। ওটাই তাঁর ইউএসপি। নিজের প্রতি যে খুব যত্ন নেন তাও না। তবে হাঁটেন নিয়মিত। হাঁটা তাঁর নেশা। হেঁটে হেঁটে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে এখন তিনি ছিপছিপে। এ হেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে কেমন দেখতে তা নিয়ে কোনও কালেই কথা বলেননি। কিন্তু বললেন শনিবার। বসিরহাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানের সমর্থনে জনসভা করতে গিয়ে সহজ, সরল এবং খোলামেলা ভাবে বললেন, “নুসরতকে দেখতে খুব সুন্দর। আমি অত সুন্দর নই।”
এ দিন হাসনাবাদের জনসভায় নুসরতকে পাশে দাঁড় করিয়ে, মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নুসরত আমাদের ঘরের মেয়ে। ও মুসলিম আমি হিন্দু। আমাদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম কোনও ভেদাভেদ নেই। নুসরতের যেমন রক্ত, আমারও তাই। ওর দু'টো চোখ, আমারও দু'টো। ওর দু'টো পা, আমারও দুটো। ওর দু'টো কিডনি, আমারও দু'টো। নুসরতের একটা লিভার, আমারও একটা। পার্থক্য একটাই, ও দেখতে সুন্দর, আমি দেখতে সুন্দর নই।"
মুখ্যমন্ত্রীর মুখ এ কথা শুনেই মঞ্চের নেতারা আর উপস্থিত জনতা অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। হেসে ফেলেন নুসরতও। তখন দিদি বলেন, “আরে সবসময় ওইরকম গম্ভীর হলে হবে! মাঝে মাঝে হাসাতেও তো হবে!”
দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে সরব মমতা। গেরুয়া শিবির সাম্প্রদায়িকতার আগুন নিয়ে খেলছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। মানুষের মধ্যে যে আসলে কোনও বিভেদ নেই, তা বোঝাতেই হাত, পা, কিডনি, লিভার, চোখের প্রসঙ্গ আনেন তৃণমূলনেত্রী। হাড়োয়ার মতো হাসনাবাদের সভাতেও নুসরতের একটি মন্তব্য (তিন তালাক নিয়ে) দুঃখ পেতে বারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ও ছোট মেয়ে রাজনীতির কিছু বোঝে না। আমরা ধর্মনিরপেক্ষ দল। দলের স্ট্যান্ডই ওর স্ট্যান্ড।”