দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে নিজে বাইক চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঝাড়গ্রামে লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। জামবনি থানার লালবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামেটিয়া গ্রামে বুধবার একটি ইট বোঝাই লরির সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। মৃত ছাত্রের নাম বিবেকানন্দ মাহাত (১৬), তার বাড়ি লালবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদুয়া গ্রামে।
বিবেকানন্দ মাহাত লালবাঁধ গ্রামের বারুণশোল হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। তার মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছিল গিধনি এলোকেশী হাইস্কুলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রের বাড়ি থেকে তার পরীক্ষা কেন্দ্র দূরত্ব ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তাই পাশের গ্রাম কোষফলিয়ার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে একাই পরীক্ষা দিতে যেত বিবেকানন্দ। পরীক্ষা শেষ হলে নিজেই বাইক চালিয়ে বাড়িতে ফিরত।
এদিন পরীক্ষার শেষে ফেরার পথে বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রাঙামেটিয়া গ্রাম ও শান্তিশোল গ্রামের মধ্যে ফাঁকা কৃষি জমির কাছে ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া থেকে আসা একটি ইট বোঝাই লরির সঙ্গে তার মুখমুখি ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিবেকানন্দের। খবর পেয়ে জামবনি থানার পুলিশ এসে লরিটিকে আটক করে।
রাঙামেটিয়া গ্রামের গ্রামবাসীরা জানান, এই পথে চিল্কিগড় থেকে চাকুলিয়া মাত্র ১৮ কিলোমিটার অপর দিকে চিল্কিগড় থেকে পড়িহাটি হয়ে চাকুলিয়ার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। পথ বাঁচাতে গ্রামের রাস্তা দিয়ে প্রায়ই ভারী যানবাহন দ্রুত গতিতে যাতায়ত করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চিল্কিগড় থেকে লালবাঁধ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার যে রাস্তাটি রয়েছে তা খুবই সংকীর্ণ এবং রাস্তার দু’পাশে কোনও মাটি বা মোরামের ফাঁকা অংশ নেই যেখানে নেমে পড়া যায়। এদিনের দুর্ঘটনার জন্য দ্রুত গতিতে ভারী গাড়ি চলাচল ও রাস্তার পাশে জায়গা না থাকাকে দায়ী করেছেন গ্রামবাসীরা।
মাধ্যমিক পরীক্ষার ঝাড়গ্রাম জেলার আহ্বায়ক তপন পাত্র বলেন, “ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত। ১৮ বছরের নীচে কাউকে বাইক চালাতে দেওয়া উচিত নয়। বাইক চালালে হেলমেট পরে চালানো উচিত এবং লাইসেন্স থাকা আবশ্যিক।”