উলুবেড়িয়ায় খড়িবন থেকে উদ্ধার ৫০ দিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেহভাজনদের জেরা করে উলুবেড়িয়ার সোমরুকে খড়িবন থেকে উদ্ধার হল মাংস লাগা একটি নরকঙ্কাল। সোমবার গভীর রাতে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ তপনা গ্রাম পঞ্চায়েতের হড়কোল এলাকা সংলগ্ন সোমরুকের ওই খড়িবনে গিয়ে কঙ্কালটির সন্ধান পায়। প
শেষ আপডেট: 10 March 2020 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেহভাজনদের জেরা করে উলুবেড়িয়ার সোমরুকে খড়িবন থেকে উদ্ধার হল মাংস লাগা একটি নরকঙ্কাল। সোমবার গভীর রাতে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ তপনা গ্রাম পঞ্চায়েতের হড়কোল এলাকা সংলগ্ন সোমরুকের ওই খড়িবনে গিয়ে কঙ্কালটির সন্ধান পায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কঙ্কালটি স্থানীয় নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিল মহম্মদের।
দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে দিল মহম্মদ নিখোঁজ থাকার পরে এই কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে।
দিন সাতেক আগে পটল ওরফে মইনুদ্দিন শেখ ও জিয়ারুল শেখ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ, তারা লালুর সঙ্গী বলে পরিচিত। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে দিল মহম্মদকে খুন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েই পুলিশ ওই কঙ্কাল উদ্ধার করে।
কঙ্কাল উদ্ধারের পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আঙুল তোলেন প্রতিবেশী লালু ওরফে নুরজামাল কাজির দিকে। এলাকার লোকেরা লালুর বাড়ি ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভাঙচুর চালানো হয় লালুর বাড়িতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় যায় উলুবেড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। আসেন হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিস মৌর্য। নামে ব়্যাফ। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে লালুকেও গ্রেফতার করেছে। তাঁর পরিবারের লোকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ ও দিল মহম্মদের পরিবার সূত্রে খবর, উলুবেড়িয়ার সমরুকের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা শেখ দিল মহম্মদ (৩৩) নিখোঁজ হন গত ২১ জানুয়ারি। তিনি জরির কাজ করতেন। কাজের সূত্রে তিনি নিজের স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। এরপর রাত পৌনে ন’টা নাগাদ ফোন করে তিনি জানান যে বাড়ি ফিরতে দেরি হবে।
[caption id="attachment_194537" align="aligncenter" width="919"]

শেখ দিল মহম্মদ[/caption]
সেই রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরের দিন সকাল হতেই পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেন। পরে উলুবেড়িয়া-শ্যামপুর রোডের কালীনগরে ফারুক সাহেবের মোড় থেকে দিল মহম্মদের মানিব্যাগ উদ্ধার হয়। সেখানে স্থানীয় লোকজন জানান ২১ জানুয়ারি রাতে কয়েকজন দিল মহম্মদকে তুলে নিয়ে গেছে।
তাঁর পরিবারের লোকেরা উলুবেড়িয়া থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ উলুবেড়িয়া থানার সামনে বিক্ষোভও দেখান।
কঙ্কালটি উদ্ধার করার পরে সেটি সেটি ফরেন্সিক তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেটি শনাক্তকরণের জন্য পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই খুনের পিছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ রয়েছে।
লালুর স্ত্রীর সঙ্গে দিল মহম্মদের ‘সম্পর্ক’ ছিল। অভিযোগ, কয়েক বছর আগে দিল মহম্মদ লালুর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তা নিয়ে দিল মহম্মদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন লালু। ইতিমধ্যে দিল মহম্মদের বিরুদ্ধে লালু অপহরণের মামলা করে, তার জেরে দিল মহম্মদ জেলও খাটে। এনিয়ে তাদের মধ্যে রেষারেষি ছিলই। যদিও দিল মহম্মদের স্ত্রী রেবেকা বেগমের অভিযোগ, দিল মহম্মদকে ফাঁসানো হয়েছিল।
রেবেকা বেগম বলেন, “বিভিন্ন সময় লালুর পরিবারের লোকেরা আমাদের মারধর এমনকি খুনেরও হুমকি দিত।” তাঁর অভিযোগ, লালুই পরিকল্পনা করে দিল মহম্মদকে খুন করেছে। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমে লালুকে আটক করে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত লালুর দুই সঙ্গী খুনের কথা স্বীকার করেছে।
লালু তপনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন সদস্য; তাঁর স্ত্রী সেরেনা কাজি বর্তমানে পঞ্চায়েত সদস্যা।