দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসানসোল থেকে পাণ্ডবেশ্বরে যাওয়ার পথে টুমনি সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় শঙ্কিত গাড়ি চালকরা। সেতুটি ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে অবস্থিত। এমন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপরে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রশাসনও তৎপর হয়ে ওঠে। যদিও কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।
টুমনি সেতুতে কয়েক দিন আগে বিরাট অংশ জুড়ে ফাটল দেখা দেয়। এই ফাটল ধীরে ধীরে চওড়া হতে থাকায় গাড়ি চালকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। কিছু দিন আগে তৈরি হওয়া এই উড়াল পুলটিতে কী ভাবে ফাটল ধরল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দেয়।
৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে ইসিএলের পণ্য পরিবহণের জন্য ভারী ভারী গাড়ি যাতায়াত করে। তা ছাড়া প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে অসংখ্য অন্য গাড়িও যাতায়াত করে। নিত্যযাত্রীদের আশঙ্কা, যে কোনও সময় এই সেতুতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতু ভেঙেও পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে ইসিএলের কয়েক জন আধিকারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যদিও তাঁরা জাতীয় সড়কের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন এটা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয়। এ ব্যাপারে পাণ্ডবেশ্বরের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক কৌশিক সমাদ্দার জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং খুব শীঘ্রই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেতু মেরামত করা হবে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বি তরফদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, “সেতুর উপরে কোনও সমস্যা নেই। সেতু ঘেঁষে অ্যাপ্রোচ স্ল্যাব নামে একটি জিনিস থাকে। সেটি মাটির উপরে ভিত্তি করে থাকে। কোনও কারণে সেই মাটি একটু বসে গেছে। সেজন্য একটা দিক একটু উঠে গেছে এবং একটা দিক বসে গেছে। স্ল্যাবটা ভাঙেনি। শুধু সামান্য সরে গেছে। আমরা স্ল্যাবের তলায় ভাল করে প্যাকিং করব। আজ রাত বা কাল সকালের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে। আমরা এ জন্য রাস্তার একদিক ব্যারিকেড করে দেব। তাতে যাতায়াতে খুব একটা সমস্যা হবে না।”
তিনি জানান নানা কারণে মাটি বসে যেতে পারে। বৃষ্টির ফলে মাটি বসে যেতে পারে। বিশাল রাস্তা হয়েছে তার ফলে এক দু’এক বছরের মধ্যে মাটি বসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রেলের ক্ষেত্রেও সেই একই কারণে লাইন পাতার পরে ব্যবহারের আগে বছর দুয়েক তা ফেলে রাখা হয়। একে ন্যাচারাল সেটলমেন্ট বলে।