দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেললাইনের উপরে বসে বিভোর হয়ে মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় অম্বিকা কালনা স্টেশনের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। তাঁর নাম টোটন সাঁতরা। গেম খেলতে তিনি এতটাই মশগুল ছিলেন যে বন্ধুদের ডাকাডাকি ও চিৎকার শুনতে পাননি। ট্রেনের হর্নও শুনতে পাননি।
দুর্ঘটনার পরে পুলিশ এসে যখন তাঁর দেহ উদ্ধার করে তখনও মোবাইল ফোনে অনলাইন গেম চলছিল। দেখা যায় গুলি-বোমা প্রভৃতি নিয়ে নিশানা করার খেলায় মেতেছিলেন টোটন।
কালনা জিআরপি টোটনের দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
অম্বিকা কালনা স্টেশনের কাছেই বাড়ি টোটনের। তিনি ও তাঁর কয়েক জন বন্ধু মিলে রেললাইনের উপরে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলেন। ট্রেন আসছে বুঝতে পেরে তাঁর বন্ধুরা লাইন থেকে উঠে গিয়ে দেখেন টোটন তখনও মোবাইল ফোনে গেম খেলায় মশগুল। তাঁরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করতে থাকেন কিন্তু টোটন শুনতে পাননি বলে তাঁরা জানিয়েছেন। মৃতের পরিবারের লোকেরা চান মোবাইলে সব ধরনের গেম নিষিদ্ধ করা হোক।
কথা বলা ও মেসেজ পাঠানোর জন্য হলেও মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ‘গেম’ খেলা ভীষণ ভাবে জনপ্রিয় তরুণ প্রজন্মের বড় অংশের কাছে। যুবক ও প্রৌঢ়দের একাংশও এখন মেতেছেন মোবাইল ফোনের নেশায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ রক্ষা করা, ছবি তোলা, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি অবসর বিনোদনের জন্য গান শোনা, সিনেমা দেখা, বই পড়া, খবর দেখা ও পড়া, ভিডিও দেখা এবং গেম খেলার জন্য লোকে দিনরাত লোকে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকছেন। এর দরুণ মোবাইল ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা নেশার জায়গায় চলে গেছে।
কানে হেডফোন গুঁজে রেললাইন ধরে হাঁটার মূল্য অনেককে দিতে হয়েছে প্রাণ দিয়ে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হওয়ার সময় অনেকে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন, লাইন পার হতে গিয়ে অনেকে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন। এসব খবর দেখার পরেও লোকজন যে সতর্ক হননি এদিনের ঘটনাই তার প্রমাণ।
মোবাইল ফোন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে শিশুদের। চোখের ক্ষতি তো হয়ই তাছাড়া মানসিক সমস্যাও হতে পারে বলে অনেক সময় মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মোবাইল ফোনের নেশা যে মারণ ব্যাধি তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল অম্বিকা কালনা স্টেশনে বসে গেম খেলা টোটন সাঁতরার মৃত্যু।