দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই পূর্ব বর্ধমানের গলসি ১ নম্বর ব্লকের পুরসা গ্রামের আমিনা খাতুনের। জ্ঞান হওয়া থেকে তার ইচ্ছে পড়াশোনা করে আর পাঁচজনের মতো করেই। মেয়েকে হতাশ করেননি মা বিলকিস বেগম। মেয়ের ইচ্ছাশক্তি আর মায়ের ঐকান্তিকতায় এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে আমিনা।
ছোট থেকে আর পাঁচজনের মতো করে মেয়েকে বড় করার চেষ্টা করেছেন আমিনা। তিনি চেয়েছেন মেয়ে শিক্ষিত হোক। আমিনার বাবা ছোট ব্যবসায়ী। নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা আমিনাকে ভর্তি করান গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে। সেখানে পড়াশোনা শেষ করার পরে আমিনা ভর্তি হয় পুরসা হাইস্কুলে। এবার সেখান থেকেই সে মাধ্যমিক দিচ্ছে। পরীক্ষার সিট পড়েছে গলসি উচ্চ বিদ্যালয়ে। হাত না থাকায় সে পরীক্ষা দিচ্ছে ‘রাইটার’ নিয়ে।
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিলকিস বেগমকে খুবই ব্যস্ত থাকতে হয়। এখন তিনি পোতনা-পুরসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। রাজনৈতিক ব্যস্ততা কখনও অন্তরায় হয়নি মেয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রে। মাধ্যমিকের প্রথম দু’দিন মা-বাবার সঙ্গে সে গিয়েছিল পরীক্ষা দিতে। বাকি দিনগুলোও তার মা-বাবা পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত যাবেন মেয়ের সঙ্গে।
প্রতিবন্ধতাকে জয় করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় আমিনা, একথা জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন। তাঁরা চান আমিনা এমন একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করুক যা দেখে অন্যরাও মনোবল পায়, তারাও যাতে বুঝতে পারে যে, যেকোনও প্রতিবন্ধকতাকেই জয় করা সম্ভব। গলসি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা গলসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বাসুদেব চৌধুরী বলেন, “প্রতিবন্ধকতা যে কখনওই বাধা নয় তা আবার প্রমাণ করল আমিনা খাতুন।”
মনোবল আর সদিচ্ছা থাকলে খঞ্জও যে পর্বত পার হতে পারেন, সেটাই প্রমাণ করল আমিনা।