
শেষ আপডেট: 30 December 2020 13:12
সাংবাদিক বৈঠকে অরিন্দম বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলার উন্নয়নে কোনও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করা হয়নি। সেই গভীর শূন্যতার মাঝেই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবারই ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। তা ছাড়া উত্তর ও পশ্চিম ভারতের উন্নয়ের সঙ্গে পূর্বের উন্নয়নে যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে সেটা চিহ্নিত করে ‘পূর্বের উদয়ের’ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৃহত্তর লক্ষ্যকে মাথায় রেখেই এই কর্মসূচি।
অন্যদিকে স্বপন দাশগুপ্তের কথায়, সেদিন বোলপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শুনেছি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোনার বাংলার গড়ে দিয়েছিলেন, আর নতুন করে সোনার বাংলা গড়ার দরকার নেই। কিন্তু প্রথমেই বলা প্রয়োজন, উনি যাঁদের ডানদিকে ও বামদিকে নিয়ে হাঁটছিলেন তাঁরা প্রকৃতই রবীন্দ্রভাবনার ধারক ও বাহক বলে মানুষ বিশ্বাস করেন কি! দুই, এটা ঠিক যে এক সময়ে সোনার বাংলা ছিল। গত পঞ্চাশ বছরে তার অনেকটাই অবক্ষয় হয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে ক্রমশই নিম্নগামী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছে, সার্বিক উন্নয়ন বলতে যে ছবিটা দেখানো হয় তা রুগ্ন। তাই আমরা মনে করছি, বাংলার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের নবজাগরণও প্রয়োজন।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মোদ্দা বিষয় হল, বিজেপি একটি বিকল্প উন্নয়নের মডেল মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে। রাজ্যে বর্তমান সরকার ও শাসক দলের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা অহোরাত্র দুর্নীতি, তোলাবাজি, স্বজনপোষণ, তুষ্টিকরণ, পুলিশ রাজের মতো অভিযোগ করছেন। কিন্তু তার সমান্তরালে মানুষকে এও দেখাতে চাইছেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে বাংলায় কী ধরনের উন্নয়নের ভাবনা রয়েছে তাঁদের। এবং তা করতে গিয়ে যে ভাবে একটা উন্নয়নের তর্ক রাজ্য জুড়ে শুরু করতে চাইছেন, যার রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। প্রথমত এতে রাজ্যের মধ্যেই আঞ্চলিক অনগ্রসরতা নিয়ে অসন্তোষ উস্কে দেওয়ার কৌশল রয়েছে, সেই সঙ্গে মানুষের কাছে পৌঁছনোরও চেষ্টা রয়েছে। তা কতদূর সফল হবে তা সময় বলবে।