দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম শ্রেণীর পড়ুয়া এক ছাত্রকে গাড়িতে চাপিয়ে জোর করে নিয়ে পালানোর সময় বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন জুনবেদিয়া মোড়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে অপহরণকারীদের ধরে ব্যাপক মারধর করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে জানা যায় অপহরণকারীরা সকলেই ওই ছেলেটির মামারবাড়ির লোকজন। ওই নাবালকের মায়ের ‘নির্দেশে’ই তাকে অপহরণ করা হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দাম্পত্য কলহের জেরে বাঁকুড়ার জয়পুরের বাসিন্দা আমরুল শেখ ও তাঁর স্ত্রী সবুজ খাতুন আলাদা থাকতেন। তাদের একমাত্র সন্তান সামিউল থাকত বাবার কাছেই। মহকুমাশাসকের মধ্যস্থতাতেই এটি স্থির হয়েছিল। ছেলেটিও বাবার কাছেই থাকতে চায়। সম্প্রতি ছেলের পড়াশোনার কথা ভেবে আমরুল শেখ তাকে বাঁকুড়া শহরের খ্রিস্টানডাঙায় তাঁর বোনের বাড়িতে রেখে আসেন। সেখানে থেকে সামিউল একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করছিল।
স্থানীয়দের দাবি, এদিন সামিউলকে তার পিসির বাড়ির সামনে থেকে একটি মারুতি ভ্যানে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কয়েকজন লোক। শিশুটিকে অপহরণ করা হচ্ছে বুঝে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মারুতি ভ্যানটিকে শহর সংলগ্ন জুনবেদিয়া মোড়ের কাছে আটক করেন। চালক ও ভ্যানের অন্য যাত্রীদের ব্যাপক মারধর করে উত্তেজিত জনতা। ওই মারুতি ভ্যানে থাকা প্রত্যেকেই সামিউলের মামারবাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক-সহ পাঁচ জনকে আটক করে।
সামিউলের মা সবুজ খাতুনের নির্দেশে তার মামারবাড়ির লোকেরা তাকে 'অপহরণ' করার ছক কষেছিল বলে ধৃতদের দাবি। পুলিশ ধৃতদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। একই সঙ্গে অপহরণের আসল উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছে।
ছেলেটিকে বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।