দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতীতে লোকসভায় এক বার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে কাগজ ছিঁড়ে তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার এ এস আটওয়ালের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রীর সেই ভূমিকা নিয়ে সেবার সমালোচনা হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। রবিবার যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ছাপিয়ে যেতে চাইলেন রাজ্যসভায় তৃণমূল দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। কৃষি বিলের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অতি নাটকীয় ভাবে ওয়েলে নেমে পড়েন ডেরেক। তারপর সভার চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহের আসনের সামনে পৌঁছে গিয়ে রাজ্যসভার রুল বুক ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন তিনি। শুধু তাই নয় হরিবংশ নারায়ণের মাইক্রোফোনও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ডেরেক।
এদিন সংসদে ওয়েলে নেমে ডেরেক মন্তব্য করেন, “এভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রথাকে নৃশংসভাবে খুন করা হচ্ছে।” ডেরেকের এই মন্তব্যের পরেই বিরোধীরা একযোগে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর জেরে ১০ মিনিটের জন্য সভার অধিবেশন মুলতুবিও করতে হয়। অধিবেশন ফের শুরু হওয়ার পরেই রাজ্যসভার রুল বুক ছেঁড়ার চেষ্টা করেন তিনি। এই ঘটনায় বিতর্ক ছড়িয়েছে সংসদের অন্দরে।
অবশ্য এই বিতর্কের মাঝে দ্য ওয়াল-কে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন জানিয়েছেন, “আমি রুল বুক ছিঁড়িনি। কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে আমি নাকি রুল বুক ছেঁড়ার চেষ্টা করেছি। আমি রুল বুক ছেঁড়ার চেষ্টাও করিনি।”
রবিবার বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পরে টুইটে ভিডিও বার্তায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ডেরেক। তিনি বলেন, “ওরা প্রতারণা করেছে। ওরা সংসদের সব নিয়ম ভেঙেছে। এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। কিন্তু সেটা খারাপ অর্থে। রাজ্যসভা টিভি ওই অংশটা কেটে দিয়েছে যাতে দেশের মানুষ তা দেখতে না পারে। ওরা রাজ্যসভা টিভিকেও সেন্সর করছে। গুজব ছড়াবেন না। আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। এটা আগে দেখুন। বিরোধীরা সভায় একসঙ্গে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।”
https://twitter.com/BanglarGorboMB/status/1307605904951369728?s=19
ডেরেকের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কৃষকদের বিরুদ্ধে একটাও খারাপ কথা নেই বিলে। বাংলার মানুষ এর বদলা নেবেন। দয়া করে বিলটা পড়ুন। কৃষকদের বিরুদ্ধে কিছু বলা নেই। বাংলায় গণতন্ত্রের হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে রোজ দু’জন করে খুন হচ্ছেন।”
এদিন অধিবেশনের শুরুতেই টুইট করে ডেরেক বলেন, “বিজেপি সবাইকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির কাছে সংখ্যার আধিপত্য রয়েছে। কিন্তু এটা শুধুমাত্র কৃষকদের বিষয় নয়। তাই এই বিল নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত। অবশ্য বিজেপির অধিকার রয়েছে ওদের মতো করে সব করে নেওয়ার। তেমনই আমাদের অধিকার রয়েছে আপনাদের সঠিক পথে নিয়ে আসার।”
রাজ্যসভায় এই বিল পেশের আগে থেকেই বিরোধিতা করছিলেন ডেরেক। তিনি টুইট করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিরোধীরা কৃষকদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছেন। ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে হারে ২০২৮ এর আগে তা সম্ভব নয়। বাংলায় ২০১১ সাল থেকে বর্তমানে কৃষকদের রোজগার তিনগুণ বেড়েছে। আমরা রাজ্যের অধিকারের ভিত্তিতে কৃষি বিলের বিরোধিতা করছি।”
এর আগে একটি ভিডিও বার্তাতেও নিজের মনোভাব জানান ডেরেক। সেখানে তিনি বলেন, “এই বিল নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার আছে। আমি যে দল থেকে আসছি তার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। আপনাদের ২০০৬ সালে নিয়ে যাই। এই দলের দলনেত্রী কৃষকদের স্বার্থে ২৬ দিন অনশন করে নিজের জীবন বিপন্ন করেছিলেন। তিনি কৃষকদের অধিকারের জন্য লড়াই করছিলেন। সাত বছর আগে ২০১৩ সালে জমি অধিগ্রহণ বিলের বিরোধিতা করেছিলাম আমরা। মাত্র ১৩টা ভোট পেয়েছিলাম। অথচ ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় জমি ফেরত দেওয়ার। গত ৬ বছর ধরে কৃষি কর্মণ পুরস্কার পাচ্ছে বাংলা। কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে বাংলার সরকারের প্রকল্প অনেক ভাল।”