দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা যুদ্ধে যাঁরা সামনে থেকে লড়াই করছেন, সেই চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে মাস্ক পৌঁছে দিতে কাজ করছেন বাংলার গ্রামীণ উদ্যোগ গোষ্ঠীগুলি। উত্তরবঙ্গের দিনহাটা থেকে সাগরের কাছে পাথরপ্রতিমা কিংবা মালদহের মানিকচক-- বাংলার ৩৮টি এই ধরনের গ্রামীণ উদ্যোগ গোষ্ঠী প্রতিদিন গড়ে ৬০০টি করে মাস্ক তৈরি করছেন।
এখনও পর্যন্ত ৪৯ হাজার মাস্ক তৈরি হয়েছে। তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের কাছে।
ইডিআইআই (Entrepreneurship Development Institute of India) জানাচ্ছে, দেশের প্রায় ৫০০টি গ্রামীণ উদ্যোগে এখন এই কাজ চলছে। তার মধ্যে রয়েছে বাংলার ৩৮টি উদ্যোগ।
কয়েকদিন আগেই নব্বই পেরোনো পাঞ্জাবের এক বৃদ্ধার মাস্ক বানানোর ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলেও মহামারীর এই সংকটে সেই বৃদ্ধা দিনরাত এক করে সেলাই মেশিনে বসে মাস্ক বানিয়ে চলেছেন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং ওই বৃদ্ধাকে কুর্নিশ জানিয়ে বলেছিলেন, আমাদের সবার শেখা উচিত।
রাজ্যে মাস্ক তৈরির জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি শুরু থেকেই তৎপর হয়েছিল। শুধু মাস্ক নয়, বাংলার বহু স্বনির্ভর গোষ্ঠী ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের জন্য পিপিই-ও তৈরি করছে। এর সঙ্গেই মাস্ক তৈরি করছে গ্রামীণ উদ্যোগগুলিও।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং হরিয়ানার বিভিন্ন ব্লকে এসভিইপি-র আওতায় প্রায় ৫০০ টি প্রশিক্ষিত গ্রামীণ উদ্যোগ দিনে গড়ে আড়াই হাজার মাস্ক তৈরি করছে এবং বিক্রি করছে। এখনও পর্যন্ত তারা সবাই মিলে মোট সাড়ে তিন লক্ষ মাস্ক তৈরি করে বিক্রি করেছে।
প্রকল্পের আয়তন ও কাজের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এসভিইপি-ইডিআইআইয়ের প্রজেক্ট অধিকর্তা ডঃ রাজেশ গুপ্ত বলেন, “এই সব ছোট সংস্থাগুলির আমানত ও পুঁজি খুব বেশি নেই। এই বিপদের সময়ে তারা খুবই সংকটে পড়েছে। কিন্তু দেখে ভাল লাগছে যে তারা সংকটের সামনে মাথা না ঝুঁকিয়ে স্থানীয় ইডিআইআই মেন্টরের পরামর্শ নিয়ে এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে।"