
শেষ আপডেট: 26 April 2020 14:15
গত ১৭ এপ্রিল কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে বিপ্লববাবুর। বেশ কয়েকদিন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসা চলার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভর্তি করা হয় সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর মাস আটেক আগে হৃদরোগের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল। এই স্বাস্থ্য অধিকর্তার অত্যধিক মাত্রায় সুগার এবং হাইপার টেনশন ছিল বলেও জানা গেছে।
১৭ এপ্রিলের কয়েকদিন আগে থেকে জ্বর, সর্দির মতো উপসর্গ দেখা যায় এই স্বাস্থ্য কর্তার। সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।এরপর বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর লালারসের নমুনা পাঠানো হয় টেস্টের জন্য। রেজাল্ট আসে পজিটিভ।শনি-রবিবার মাঝের রাতে মারা যান তিনি।
তাঁর মৃত্যুর পরে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত বাংলার অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেককে আবার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি ন্যশনাল মেডিক্যাল কলেজের এক ইন্টার্ন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক নার্স, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের স্টোর ইনচার্জ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যুর পরে চিকিৎসক সমুদ্র সেনগুপ্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় এখটি পোস্টে লেখেন:
ঠআজ খবর পেলাম চলে গেছেন বিপ্লবদা। আমাদের স্বাস্থ্য প্রশাসক ক্যাডারের প্রথম মৃত্যু। ফ্রন্টলাইনে যে ডাক্তার বন্ধুরা কাজ করছেন তারা যাতে ঠিকমতো সুরক্ষা কবচ পায় তার জন্য বিপ্লবদা শেষ দিন অবধি কাজ করে গেলেন একজন নেহাৎ মাঝারি স্তরের আমলা হিসেবে, যার কোনো বড় মাপের নীতি ঠিক করার ক্ষমতা ছিলনা কেবল নিজের আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার অভ্যেস ছিল, অভ্যেস ছিল ন্যস্ত দায়িত্ব হাসিমুখে নিঁখুত ভাবে পালন করার। সেই বিপ্লবদা আজ চলেই গেলেন বরাবরের মতো। দূরের জেলা থেকে জুনিয়ার হিসেবে যখন স্বাস্থ্যভবনে যেতাম তখন যে গুটিকয় ঘরে সিনিয়রদের থেকে উষ্ণ আন্তরিকতা ভরা অভ্যর্থনা পেতাম তার মধ্যে একটা ঘর ছিল প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর ঘর আর সেই ঘরে ডেস্কের পেছনে বসা বিপ্লবদা। দু জনে ভিন্ন চিকিৎসক-সংগঠন করলেও দাদা-ভাই এর সম্পর্কে তার ছায়া পড়েনি কোনো দিন।
মারা যাওয়ার আগে বড় কষ্ট পেয়ে মারা গেলেন বিপ্লবদা। আজ যেখানেই থাকো ভালো থেকো বিপ্লবদা।
যুদ্ধের মধ্যে সিনিয়র কম্যান্ডার মারা গেলেও শোক পালন করার বিলাসিতা দেখানোর সময় নেই। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করাই আমার মতো জুনিয়ার কম্যান্ডার এর কাছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায়। স্যালুট বিপ্লবদা।
ডাঃ বিপ্লব কান্তি দাশগুপ্ত অমর রহে।"