রাস্তা চুরি! কাটোয়ায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিনব অভিযোগ গ্রামবাসীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রাণ শিবিরের ত্রিপল চুরি, রেশনের চাল চুরি, প্রকল্পের টাকা চুরি- এই চুরির তালিকাটি মোটেই কম নয়। এবার তাতে যোগ হল আরও একটি চুরি। হ্যাঁ, এবার আস্ত রাস্তা চুরির অভিযোগ উঠল, খোদ শাসকদলের বিরুদ্ধেই। ফলক বসিয়ে প্রকাশ্যেই রাস্তা ‘
শেষ আপডেট: 28 September 2021 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রাণ শিবিরের ত্রিপল চুরি, রেশনের চাল চুরি, প্রকল্পের টাকা চুরি- এই চুরির তালিকাটি মোটেই কম নয়। এবার তাতে যোগ হল আরও একটি চুরি। হ্যাঁ, এবার আস্ত রাস্তা চুরির অভিযোগ উঠল, খোদ শাসকদলের বিরুদ্ধেই। ফলক বসিয়ে প্রকাশ্যেই রাস্তা ‘চুরি’ হল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে। অর্ধেক রাস্তার খোঁজ মিললেও বেমালুম গায়েব আরও অর্ধেক রাস্তা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়।
অসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকা জসি অর্ধেক রাস্তার খোঁজ করতে গিয়ে বেরিয়ে এল আসল সত্য। অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এমন ফলক লাগিয়ে অসমাপ্ত রাস্তার টাকা চুরি করেছেন শাসক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাই। এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসক দলের উদ্দেশে বিজেপির হুঁশিয়ারি, বাকি রাস্তা শীঘ্রই সমাপ্ত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তারা।
তৃণমূলে যাওয়ার কথা গুজব, বিজেপিতে থাকছেন এই বিধায়ক
কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের অধীনে মঙ্গলকোট বিধানসভার অন্তর্গত গাফুলিয়া আলমপুর গ্রাম। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে মঙ্গলকোটের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর উন্নয়ন তহবিল থেকে গ্রামের বাসস্ট্যান্ড থেকে আলমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত দীর্ঘ ২ কিলোমিটার পিচ রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু মাত্র ৯ দিনের মধ্যেই রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়ে যায়। জানা যায়, কাটোয়া ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতি ও আলমপুর পঞ্চায়েতের উদ্যোগেই এই রাস্তাটি হয়েছে। এমনকি কাটোয়া ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সৌজন্যে রাস্তা নির্মাণের একটি ফলকও বসানো হয়েছে। কিন্তু বাকি রাস্তা গেল কোথায়?
আদতে প্রাক্তন বিধায়ক ও বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর আর্থিক উন্নয়ন তহবিল থেকে তৈরি হওয়া এই রাস্তা অর্ধেক নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ, বাকি অসমাপ্ত অর্ধেক রাস্তা তৈরি না করে সেই টাকা পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েতের যোগসাজশেই পকেটে পুরেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর সেই অর্ধেক নির্মাণ রাস্তাকেই সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দেখিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি ফলক। বিষয়টি জানাজানি হতেই জোর শোরগোল শুরু হয়েছে গ্রামে।
রাস্তা চুরি করা হয়েছে, এমনই অভিযোগ করে গ্রামবাসীরাই সরাসরি আঙুল তুলেছে শাসকদলের দিকে। তাঁদের দাবি, অর্ধেক রাস্তা বানিয়ে বাকি টাকা পকেটে পুরেছেন তৃণমূলের নেতারা। এদিকে, বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ-সভাপতি অনিল দত্তের কটাক্ষ, তৃণমূল এবার রাস্তা চুরি করেছে। সম্পূর্ণ রাস্তা না বানিয়ে অর্ধেক রাস্তা বানিয়ে ফলক বসিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন নেতাকর্মীরা। বাকি অসমাপ্ত রাস্তা শীঘ্রই না হলে বিজেপি বড় আন্দোলনে নামবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'