রফিকুল জামাদার
মেদিনীপুর কলেজ মাঠে সেদিন সবে অমিত শাহর হাতে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদান পর্ব শেষ হয়েছে। তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে বসে তার পর পরই সাংবাদিক বৈঠক করে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথা বলেছিলেন, চমকে গেছিলেন অনেকেই।
কী বলেছিলেন কল্যাণ?
তিনি বলেছিলেন, "মেদিনীপুরের ওই কলেজ মাঠে আমি ফুটবল খেলতাম ক্লাস ফাইভ থেকে এইট পর্যন্ত। সেই মাঠ আপনি ভরাতে পারেননি।”
রাজনীতির আকচাআকচির কথা ছেড়ে দিন। ফুটবলে আসুন। কল্যাণ যে ওই মাঠে ফুটবল খেলতেন অমিত শাহ নিশ্চয়ই জানতেন না। মুকুল রায় হেসে বলেন, "আমি কখনও শুনিনি!" আর শুভেন্দু অধিকারীকে এমনিই প্রতিক্রিয়ার জন্য ফোনে পাওয়া যায় না, কল্যাণের ফুটবল নিয়ে তাঁর জবাবের অপেক্ষা করা হয়তো বৃথা!
কিন্তু কল্যাণবাবুর সতীর্থরাও কি কখনও জানতেন, তাঁর ফুটবল খেলার কথা! এমনিতে কল্যাণবাবুর মুখ দুরন্ত চলে। পেশায় তিনি আইনজীবী। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় থেকে কলকাতা হাইকোর্টের বাইরে তিনি যখন সাংবাদিকদের শুনানির অগ্রগতির কথা বলতেন, হাঁ করে শুনতেন অনেকেই। আইনের ধারা-উপধারা তুলে ধরে এখনও তিনি গড়গড় করে বলে যেতে পারেন।
এ হেন কল্যাণবাবুর একটা গুণ বাইরের লোকজন না জানলেও দলের অনেকে জানেন। একবার তো বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে দিদি তাঁকে বলেন, এই কল্যাণ তুমি একটা গান গাও দেখি। পলকের মধ্যেই কল্যাণবাবু গান ধরেন—ভূপেন হাজারিকার গাওয়া সেই কিংবদন্তী গান— ‘ও গঙ্গা তুমি বইছ কেন...।’ তাঁর ভারী কণ্ঠ। গানটা যে সেদিন খুব খারাপ গেয়েছিলেন, তাও কিন্তু নয়।
সে যাক। কল্যাণবাবুর ফুটবলের কথায় আসা যাক। দ্য ওয়ালের তরফে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। কল্যাণবাবু জানিয়েছেন, “এক সময়ে চুটিয়ে ফুটবল খেলতাম। পছন্দের পজিশন ছিল স্ট্রাইকার। তবে বক্স স্ট্রাইকার নয়। ডান দিকের উইং ঘেঁষে বিপক্ষের বক্সে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করতাম!”
https://youtu.be/jI0s6q7kFDM
স্কুলের চৌহদ্দি পেরনোর পর তাঁর আগ্রহ বদলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর কথায়, “কলেজে উঠে ফুটবলের বদলে ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। তবে সবটাই অ্যামেচার।”
রাজনীতিকদের অনেকেরই খেলাধুলো বা শরীর চর্চার প্রতি আগ্রহ থাকে। বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্সিং-প্রেম কারও অজানা নয়। আরএসএসের মতাদর্শ নিয়ে যার যাই বক্তব্য থাকুক, রাজ্য বিজেপি সভাপতি যে অসাধারণ লাঠি ঘোরাতে পারেন তা বাস্তব। আর ফুটবলের মাঠ থেকে উঠে এসে প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখন সাংসদ।
তবে কল্যাণবাবুর কথা শুনে বিজেপির মুখপাত্র এদিন হেসে বলেছেন, "উনি উইং ধরে আক্রমণে উঠে আসুন দেখি। আমরাও তক্কে তক্কে রয়েছি। অফ সাইড ট্র্যাপে ফেলব।"
অঙ্কন: শুভ্রনীল ঘোষ