
শেষ আপডেট: 22 July 2023 04:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির আরাধ্য রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দকে তাঁর মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল! ইসকন দ্বারকার সহ-সভাপতি অভাব লীলা দাসের মন্তব্যের জন্য বিবৃতি জারি করে ক্ষমা চেয়েছিল ইসকন (ISKCON)। তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতে বৃন্দাবনের পাঠানো হয়েছিল ল। কিন্তু তরুণ এই সাধুর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে উত্থান হয়ে উঠেছিল বাংলা। সেই দাবি পূরণ হল অবশেষে। একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন অমোঘ লীলা দাস (Amogh Lila Das apologizes)।
ইসকনের এই সাধু জানিয়েছেন, এমনি এমনি নয়, দর্শকদের কোনও একজনের প্রশ্নের জবাবে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে সে ব্যাপারে তিনি অনুতপ্ত, জানিয়েছেন অমোঘ লীলা । তিনি জানিয়েছেন, কাউকে আঘাত দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
ভক্তদের উদ্দেশে হিন্দু ধর্মের মাহাত্ম্য ও তাতে ইসকনের ভূমিকা বোঝাতে গিয়ে সরাসরি রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের দর্শনকেই আক্রমণ করে বসেছিলেন অমোঘ লীলা দাস (Amogh Lila Prabhu)। রামকৃষ্ণের ‘যত মত তত পথ’ বাণীকে উদ্ধৃত করে এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বসেন যা রীতিমতো হাস্যকর বলেই মনে করছেন অনেকেই। রামকৃষ্ণ তাঁর এই বাণীতে মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিলেন ঈশ্বরকে অনুভবের বহু পথ। একেক মতের মানুষ একেক পথ ধরে এগোতে পারেন। কিন্তু শেষে সেই একই অভীষ্ঠে পৌঁছবেন তাঁরা। পরমহংসদেবের সেই দর্শনের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমোঘ লীলা বলেন, ‘যে রাস্তা দিয়ে ইচ্ছে যাওয়ার বেরিয়ে পড়ো, গন্তব্য একই হবে। সেটা কখনই হয় না। আমি যদি মায়াপুর যেতে চাই, তবে ডান-বাম-আগে-পিছে যে কোনও রাস্তা ধরে যাওয়া সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট রাস্তা ধরতে হবে।’
শুধু রামকৃষ্ণ নন, বিবেকানন্দর নীতিকেও সমালোচনা করেছেন অমোঘ লীলা। তিনি বলেন যে, বিবেকানন্দকে তিনি শ্রদ্ধা করেন ঠিকই, কিন্তু সব মানতে পারেন না। তিনি কখনই বিবেকানন্দকে সিদ্ধ পুরুষ মনে করেন না। অমোঘ লীলার ব্যাখ্যা, “কোনও সিদ্ধপুরুষ কখনও কোনও পশু মেরে খাবেন না।” তিনি বলেন, “বিবেকানন্দ যদি মাছ খান তবে কীভাবে তিনি সিদ্ধপুরুষ হবেন?”
এরপরেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের ঠেক, সর্বত্র অমোঘ লীলার 'বাণী' নিয়ে নিন্দা শুরু হয়। কেউ কেউ বলেন, হিন্দু ধর্মের প্রসারে বিবেকানন্দের ভূমিকাকে খর্ব করতে গিয়ে বেনজির আক্রমণ করে ফেলেছেন তিনি। যা কখনই কাম্য নয়।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অমোঘ লীলার ওই ভিডিও টুইট করে লেখেন, ‘ইসকন আমাদের প্রিয়। কিন্তু তার এই বাচালের অসভ্যতা বন্ধ করুন তাঁরা। রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দকে অপমান করে এসব কথা বললে বরদাস্ত করা হবে না।’ পাশাপাশি, অমোঘ লীলার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান কুণাল।
এরপরে ইসকনের তরফ থেকেই শাস্তি দেওয়া হয় ওই সাধুকে। প্রায়শ্চিত্তের জন্য বৃন্দাবনে পাঠানো হয় তাঁকে (Punishment)। প্রকাশ্যে ধর্মীয় আলোচনা করতেও নিষেধ করা হয় অমোঘ লীলাকে। ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস প্রভু বলেন, “ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাইতে হয়েছে অমোঘ লীলা প্রভুকে।”
যদিও প্রকাশ্যে তাঁকে কখনওই ক্ষমা চাইতে দেখা যায়নি। তাই শাস্তি পেলেও আদৌ তাঁর 'সুমতি' হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিলই। তবে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রায় ২ সপ্তাহ পর সত্যিই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন অমোঘ লীলা প্রভু।
কে এই অমোঘ লীলা? ছিলেন মার্কিন বহুজাতিকের ইঞ্জিনিয়ার, হলেন ইসকনের সন্ন্যাসী