দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অণ্ডালের কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে ছমাস ব্যাপী দীর্ঘ লকডাউন কালে বিমানবন্দর থেকে উড়ান ওঠানামায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আনলক ৪এর ঘোষণার পর সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর থেকে আবার বিমান উড়ল কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে। ঠিক ১৭২ দিন বা প্রায় ৬ মাস পরে দুর্গাপুর- মুম্বাই ও দুর্গাপুর-চেন্নাইের মধ্যে প্রাথমিকভাবে আরম্ভ করা হল বিমান চলাচল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিমান বন্দরের ডিরেক্টর অপূর্ব শর্মা সোমবার জানান, আপাততঃ প্রতি সপ্তাহে তিনদিন করে বিমান ওড়ানো হবে বলে স্থির করা হয়েছে। সোমবার , বুধবার ও শুক্রবার চলবে বিমান। দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই থেকে একটি বিমান দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে দুপুুর ২টো ০৫ মিনিটে। দুর্গাপুরে তা পৌঁছবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ। ঐ একই বিমান দুর্গাপুর থেকে ছাড়বে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে। চেন্নাই পৌঁছাবে ৭ টা ৩৫ মিনিট নাগাদ।
একইরকমভাবে দুর্গাপুর- মুম্বাই বিমানটি দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে। দুর্গাপুরে তা পৌঁছাবে প্রায় ঘণ্টা তিনেক পর, দুপুর ১টা ৫৫মিনিট নাগাদ। ঐ একই বিমান মুম্বইগামী হয়ে দুর্গাপুর থেকে ছাড়বে অবতরণের ঠিক একঘণ্টা পর, দুপুর ২টো ৫৫মিনিটে। মুম্বাই পৌঁছাবে ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এদিন এও জানান, বিমানে আরোহনকালে একজন যাত্রী নিজের হ্যান্ড ব্যাগ ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের একটি মাত্র চেক-ইন লাগেজ বিনা মাশুলে সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাকি লাগেজের জন্য বাড়তি মাশুল গুনতে হবে যাত্রীদের। করোনা আবহে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধির দিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে। বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের যাবতীয় নির্দেশিকা মেনে, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করেই উড়বে বিমান । তার জন্য সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও এদিন বিমান বন্দর সূত্রে জানানো হয়।
প্রাথমিকভাবে মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ শুরু হল। এই দুই শহরের মধ্যে উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার পরে, পরিস্থিতি বুঝে দিল্লি ও হায়দ্রাবাদের সঙ্গেও বিমান যোগাযোগ চালু করা হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।