
শেষ আপডেট: 19 June 2023 16:45
পঞ্চায়েত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ প্রথম নির্দেশে জানিয়েছিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে হাইকোর্টে গোটা রাজ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।
হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলা গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার শুনানি হবে। তার আগে সোমবার রাতে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত ভোটে স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করে ফেলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের তরফে সব জেলার জেলা শাসকদের বলা হয়, অতিশয় স্পর্শকাতর ও স্পর্শকাতর বুথগুলি ম্যাপিং করে বা চিহ্নিত করে তার রিপোর্ট পাঠাতে। সব জেলা থেকে সেই রিপোর্ট পাওয়ার পর সূত্র জানাচ্ছে, স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা কমবেশি ১ হাজার। পঞ্চায়েতে মোট বুথ রয়েছে ৬১ হাজার ৬৩৬টি। তার ১.৬ শতাংশ হল স্পর্শকাতর বুথ।
কলকাতা হাইকোর্ট পঞ্চায়েত মামলার প্রথম নির্দেশে বলেছিল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন স্পর্শকাতর বুথের যে প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে, তার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তখনও পর্যন্ত তারা বা রাজ্য সরকার কোনও মূল্যায়নই করেনি। সুতরাং যে তথ্যের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে তা ঠিক নয়। কমিশন এই সবে স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্যই তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাঙড়-সহ যে সব এলাকায় অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, তারও একটি তালিকা তৈরি করে রেখেছে রাজ্য সরকার।
নবান্ন ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য হবে, হাতে গোণা কয়েকটি জায়গায় অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তার জন্য গোটা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের যৌক্তিকতা আদৌ রয়েছে কী? দুই, কেন্দ্রীয় বাহিনীই কেন?
পঞ্চায়েত ভোটের জন্য রাজ্য সরকার তিনটি অবিজেপি, অকংগ্রেসি রাজ্যের কাছে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী চেয়ে রেখেছে। স্পর্শকাতর এলাকায় তাদের মোতায়েন করা হবে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা বলেন, হাইকোর্টে কমিশনের বক্তব্য শোনা হয়নি। কমিশন তাই সর্বোচ্চ আদালতকে সবটা জানাতে চায়। কমিশনের মতোই রাজ্য সরকারও তাদের অবস্থান জানাবে।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও ওই মামলায় আগেই ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছেন। অর্থাৎ তাঁদের আইনজীবীরাও সওয়াল করবেন সর্বোচ্চ আদালতে।
এখন দেখার মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে এগোয়।
'এত লোডশেডিং হচ্ছে কেন, আর অভিযোগ শুনতে চাই না', সিইএসসিকে ভর্ৎসনা বিদ্যুৎমন্ত্রীর