দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআইয়ের পেটের খবর আগে থেকে জানা সহজ নয়।
কিন্তু দিলীপ ঘোষ যেন হাওয়া অফিস। বুধবার দিল্লিতে তিনি বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে পূর্বাভাস জানালেন, গরু, কয়লা, বালি নিয়ে সিবিআই তদন্তে কোন দিকে যাবে।
গরু পাচার কাণ্ডে মঙ্গলবারই সিবিআই গ্রেফতার করেছিল বিএসএফ কমান্ডান্ট সতীশ কুমারকে। বুধবার তাঁকে আসানসোল কোর্টে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিন সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তারপর এদিন বিকেলে দিল্লিতে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, "কেন্দ্রীয় এজেন্সি সক্রিয় হয়েছে। তারপর ধরা পড়া শুরু হয়েছে। অনেক দূর পর্যন্ত হাত যাবে। এক আধ মাসের মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটবে।"
কেন্দ্রীয় এজেন্সি কী করবে তা কী ভাবে একজন বিজেপি সাংসদ বলতে পারেন তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শাসকদলের অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, "দিলীপ ঘোষ কি বিজেপির রাজ্য সভাপতি না সিবিআইয়ের ডিরেক্টর?"
তৃণমূল এমনিতেই বলে, বিজেপি সরকারে আসার পর থেকে নির্লজ্জ ভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে। এদিন দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর শাসকদলের সেই বক্তব্যই আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে। সুখেন্দুবাবু এই প্রসঙ্গে নকশালদের একটি স্লোগানের কথা বলেন-“মানুষ যখনই চায় বস্ত্র ও খাদ্য/সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের বাদ্য।” তাঁর কথায়, ভোট এলেই এজেন্সির বাদ্য বাজে। ওরা যা পারে করুক।
এ দিন দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, "শুধু গরু পাচার নয়। কয়লা, খাদানের বালি, পাথরও পাচার হচ্ছে। সেই টাকা রাজনীতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারা সেই টাকা নেয় সবাই জানে। আমরা চেয়েছিলাম তদন্ত হোক, সেটা হচ্ছে।"
ইতিমধ্যেই কয়লা পাচারের তদন্ত ইনকাম ট্যাক্সের থেকে সিবিআই নিজেদের হাতে নিয়েছে। সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত সিবিআইয়ের যে অফিসাররা করছেন তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। সব মিলিয়ে নতুন করে ধরপাকড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ছিল। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, বাংলায় মহিলাদের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ সেখানে উঠেছিল। তাঁর কথায়, "রোজই বাংলায় কোথাও না কোথাও মহিলাদের দেহ উদ্ধার হচ্ছে, রাজনৈতিক হিংসা হচ্ছে-- এই সমস্ত বিষয়ই স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে তোলা হয়েছে।" বিহার ভোটের ফলাফলের পরের দিন বিজেপি সদর দফতর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বাংলার নাম না করে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এদিন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকেও উঠল সেই প্রসঙ্গ।